এই সময়, দিঘা: প্রথম দফার ভোট মিটতেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে দিঘা, মন্দারমণি। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন ছিল পূর্ব মেদিনীপুরে। ভোটের সময়ে অশান্তি এড়াতে বহিরাগত লোকজন যাতে কোনওভাবে হোটেলে থাকতে না পারেন সে ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল সমস্ত মদের দোকান।
কমিশনের নিষেধাজ্ঞা জারির পরে ২১ এপ্রিলের মধ্যে পর্যটকরা দিঘা, মন্দারমণি ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেন। পর্যটকের অভাব ও ভোটের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয় সমুদ্র সৈকতের বেশিরভাগ হোটেল, লজ ও গেস্ট হাউস। ভোট মরশুমে চেনা দিঘা একেবারে অচেনা হয়ে গিয়েছিল। শুনশান সৈকত মনে করিয়ে দিয়েছিল করোনাকালের কথা।
বৃহস্পতিবার ভোট মিটে গিয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে চেনা ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে দিঘা। তবে দোকানপাট, হোটেল খুলতে শুরু করলেও দিঘায় এ দিনও পর্যটকের দেখা মেলেনি। হোটেল মালিকরা জানাচ্ছেন, প্রথম দফার ভোট মিটলেও ক’দিন বাদে (২৯ এপ্রিল) দ্বিতীয় দফার ভোট। ৪ মে ফল ঘোষণা। তার আগে পর্যটকের ভিড়ের সম্ভবনা কম। এ দিন মদের দোকানও খুলেছে।
তবে পর্যটক না থাকায় মদের দোকানে ভিড় তেমন ছিল না। ওল্ড দিঘার এক হোটেল মালিক সহস্রাংশু মাইতি বলেন, ‘দিঘা ভোটের আগে থেকেই ফাঁকা। পর্যটকদের ভিড় নেই। ৪ মে ভোটের ফল, তার পরে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট। আমাদের ধারণা, গরমের ছুটি পড়ার পরে দিঘায় পর্যটকদের ভিড় বাড়বে।’ দিঘা–শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, ‘কমিশনের নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে। পর্যটকরা এখন নিশ্চিন্তে দিঘা, মন্দারমণি আসতে পারেন। আগামী শনি, রবিবার ভালো ভিড়ের আশা করছি।’
নিউ দিঘা হোটেল মালিক সংগঠনের অন্যতম সদস্য অশোক চন্দের কথায়, ‘কমবেশি বুকিং হচ্ছে। তবে গরমের ছুটির আগে ব্যাপক ভিড়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।’ দিঘার ডিএসপি (ডি অ্যান্ড টি) মোহিত মোল্লা বলেন, ‘পর্যটকদের হোটেলে থাকা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে। তবে অশান্তি এড়াতে নজরদারি চলছেই।’