• মূল ইস্যু রেলগেট, কাটোয়ায় নজরে কাকা–ভাইপোর ভোটযুদ্ধ
    এই সময় | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, কাটোয়া: বিধানসভা নির্বাচনে এ বার পাঁচমুখী লড়াই হতে চলেছে কাটোয়ায়। ৩০ বছরের বিধায়ক তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই আসনে ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন তাঁরই আপন ভাইপো রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়। রবীন্দ্রনাথের ছেড়ে আসা হাত চিহ্ন নিয়ে লড়ছেন তিনি কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে। বিজেপি দাঁড় করিয়েছে কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষকে। পর পর দু’বার কাটোয়া আসনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের পরে এ বার প্রার্থী দিয়েছে বামেরাও। পেশায় শিক্ষক সঞ্জীব দাস লড়ছেন সিপিএমের হয়ে। আবার আম জনতা উন্নয়ন দলের হয়ে এই কেন্দ্রে লড়ছেন সিপ্পি তিওয়ারি।

    প্রতিদ্বন্দ্বী যত জনই থাকুন, এই কেন্দ্রে কাকা–ভাইপোর লড়াইয়ের দিকেই এ বার বেশি নজর সবার। কংগ্রেসের রণজিৎ কাকা রবীন্দ্রনাথকে ভোটের ময়দানে কতটা বিপদে ফেলবেন তা নিয়ে জল্পনা আছেই। তবে রবীন্দ্রনাথ এ বার সপ্তম বারের জন্য কাটোয়ার বিধায়ক হবেন বলে নিশ্চিত শাসকদল। সুবোধ দত্ত, সঞ্জয় দাসরা বলেন, ‘কাকা–ভাইপোর লড়াই এ বার কাটোয়ার ভোটের বিশেষ ফ্যাক্টর। কে কাকে কতটা মাত দিল, সে দিকে শহরবাসীর নজর থাকবেই। এ বার ভোটে এটা সবার আকর্ষণও বলা যায়।’ তবে বিজেপি এবং সিপিএমও জয়ের বিষয়ে প্রত্যয়ী।

    আগের নির্বাচনগুলির মতো এ বারও কাটোয়ায় ভোটের মূল ইস্যু রেলগেট। ভোট আসে ভোট যায়, প্রতিশ্রুতি রয়ে যায়। রেলগেটের দাবি পূরণ হয় না কাটোয়াবাসীর। দশকের পরে দশক ধরে কাটোয়া শহরে ঢোকার মুখে রেলগেটের যন্ত্রণায় ভুগছেন তাঁরা। প্রতিটি নির্বাচনের আগে ওই রেলগেটের জায়গায় ওভারব্রিজ তৈরির প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও আজও তা তৈরি হয়নি। এ বারও একই প্রতিশ্রুতি শোনাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে এলাকার মানুষ বলছেন, দ্রুত স্থায়ী সমাধান দরকার।

    কাটোয়ার বাসিন্দা রাজীব দেবনাথ, পম্পা দাসরা বললেন, ‘গোটা কাটোয়ার উন্নয়ন ওই রেলগেটেই আটকে রয়েছে। আসতে যেতে মিনিটের পর মিনিট রেলগেটে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। প্রতি বার শুনি, এ বার হবে। কিন্তু ওভারব্রিজ আর হয় না।’ এই শহরের বাসিন্দা সঞ্জয় দাস বললেন, ‘ভোটের আগে হয়ে যাবে শুনি। আর ভোটের পরে শুনি, কার দোষে হলো না। এই তো চলছে। রেলগেটের সমস্যা আদৌ মিটবে কি না, জানি না।’

    রেল ওভারব্রিজের পাশাপাশি ভাগীরথীর উপরে একটি সেতুর প্রয়োজনের কথা বলছেন অনেকেই। কাটোয়া ও বল্লভপাড়ার মধ্যে সেতু নির্মাণ হলে বর্ধমান ও নদিয়া জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বদলে যাবে। পাশাপাশি দাঁইহাট শহরে কলেজ তৈরি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আরও উন্নতির মতো বিষয়গুলিও এ বার ভোটে উঠে আসছে।

    তৃণমূলের তরফে লিফলেটে এ বারও রেলগেট–সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘রেল ওভারব্রিজ তৈরির জন্যও চেষ্টায় কোনও ত্রুটি আমরা রাখিনি। কাজও অনেকটাই এগিয়েছে। এ বার হয়ে যাবে বলে আমরা নিশ্চিত।’ বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ ঘোষ বললেন, ‘ওরা মুখে বলে, আমি জিতলে করে দেখাব। রেলগেটের সমস্যা মেটানো আমাদের প্রধান কাজ হবে।’

    তৃণমূলের চিন্তার অবশ্য কারণ রয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে কাটোয়া শহরে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। জয় এসেছিল কাটোয়া শহর লাগোয়া এলাকাগুলি থেকে রবীন্দ্রনাথ লিড পাওয়ায়। কাটোয়া শহরের এই চিত্র এ বার বদলাবে বলে দল মনে করছে। অন্য দিকে, কংগ্রেস মনে করছে, এক সময়ের গড় তারা ফিরে পাবে। হারানো ভোট ফের আসবে ঝুলিতে। হাত চিহ্নের প্রার্থী রণজিৎ বললেন, ‘রেলগেট, ভাগীরথীতে সেতু— এগুলো সত্যিই প্রয়োজন। জিতলে এই প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করব। আর কাটোয়া ও দাঁইহাট শহর থেকে যে আমি লিড দেবো তা নিশ্চিত।’ জয় নিয়ে আশাবাদী বামেরাও। সিপিএমের প্রার্থী সঞ্জীব বললেন, ‘রেল ওভারব্রিজের জন্য প্রকৃত আন্দোলনে প্রথম থেকে বামেরাই আছে। বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি, কনভেনশন আমরা করে গিয়েছি। জয়ী হলে এই আন্দোলন আরও তীব্র হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)