আম আদমি পার্টির ঘর ভেঙে এ বার সু্প্রিমোর ঘরেও নজর বিজেপির। তাঁদের সাঁড়াশি আক্রমণে জেরবার দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রাজ্যসভায় তাঁর দলের ঘরে ভাঙন ধরানোর পরে এ বার গেরুয়া শিবিরেরে নিশানায় আপ সুপ্রিমোর বর্তমান সরকারি বাংলো। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে বিজেপি নেতা প্রবেশ বর্মা অভিযোগ করেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে এই দ্বিতীয় বাংলোরও অন্দরসজ্জা করেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ওই বাড়ির কিছু ছবি দেখিয়ে বাংলোটিকে ‘শিশমহল ২’ বলে ব্যাখ্যা করেছে বিজেপি।
এ দিন সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই বিজেপি নেতা প্রবেশ ভার্মা কড়া ভাষায় কেজরিওয়ালকে আক্রমণ করে তাঁকে ‘দিল্লির রহমান ডাকাত’ বলেও কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সরল জীবনযাপনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন কেজরিওয়াল। বিজেপির দাবি, এই ইস্যু সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার সামিল এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।
ভার্মা ৯৫ লোধি এস্টেটে কেজরিওয়ালের সাম্প্রতিক সরকারি বাংলোতে ওঠার কথা উল্লেখ করে সাংবাদিক বৈঠকে কিছু ছবি দেখান। ওই ছবির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,‘এটাই শিশমহল-২। কাল (শুক্রবার) ওই ৯৫ লোধি এস্টেটে উঠে গিয়েছেন তি্নি, যিনি নাকি বলেছিলেন সাধারণ মানুষের মতো থাকবেন। আমি যখন আগের শিশমহল-এ গিয়েছিলাম, তখন অবাক হয়ে ভাবতাম, এত বিলাসবহুল বাড়িতে কেউ কীভাবে ঘুমায়,ওরা ওখানে ঘুমায় কী করে? এ তো আরও চোখ ধাঁধানো।’
এখানেই শেষ নয়, কটাক্ষের সুরে ভার্মা বলেন,‘দিল্লির ভোটাররা দিল্লির রেহমান ডাকাতকে হারিয়ে দিতেই ও এখন পাঞ্জাবে চলে গিয়েছে। তাতে সমস্যায় পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান।’ ভার্মার কথায়, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের বাসভবনের আশেপাশের বেশ কয়েকটি সরকারি আবাসন কেজরিওয়াল, দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন, রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় সিং এবং প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়াসহ আপ নেতারা দখল করে রেখেছেন।
প্রসঙ্গত, ‘শীশমহল’ শব্দটি মূলত কেজরিওয়ালের সরকারি বাসভবনকে ঘিরে আগের বিতর্ক থেকে এসেছে। বিজেপি আগে অভিযোগ করেছিল, মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাড়ির সংস্কারে বিপুল টাকা খরচ করা হয়েছে এবং সেখানে বিলাসবহুল ইন্টেরিয়র, দামি সাজসজ্জা ও আধুনিক সুবিধা যুক্ত হোম অ্যাক্সেসেসারিজ় আনা হয়েছে। সেই অভিযোগের জেরেই ওই বাড়িকে কটাক্ষ করে ‘শীশমহল’ বলা শুরু হয়। এবার নতুন করে যে বাড়ির ছবি সামনে আনা হয়েছে, তাকে সেই প্রেক্ষিতেই ‘শীশমহল ২’ নামে অভিহিত করছে বিজেপি।
অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে আম আদমি পার্টি। দলের তরফে জানানো হয়েছে, বিজেপি যে ছবি প্রকাশ করেছে, সেগুলি ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর। দলের নেতা সঞ্জয় সিং বলেন, বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে এবং মানুষের নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে।
AAP আরও জানিয়েছে, যদি এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ বন্ধ না হয়, তবে তারা আইনি পথে হাঁটবে এবং মানহানির মামলা দায়ের করতে পারে। একই সঙ্গে তারা বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে—যদি অভিযোগ সত্যি হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বাড়িটি প্রকাশ্যে দেখাতে হবে এবং প্রমাণ দিতে হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে বিজেপি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আক্রমণ শানাচ্ছে, অন্যদিকে AAP এটিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে পাল্টা আক্রমণ করছে। আগামী দিনে এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।