• কেজরি বাড়ি ছেড়ে দিতেই বদলে গেল সব! কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিজেপিতে আশ্রয়দাতা অশোক
    এই সময় | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • রাঘব চাড্ডার বিজেপিতে যোগ দেওয়া সময়ের অপেক্ষাই ছিল। কিন্তু অশোক মিত্তল? তিনিই কি অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে বড় ধাক্কা দিলেন? শুক্রবার রাঘবের পাশে বসে তাঁকে দল ছাড়ার ঘোষণা এবং পরে একসঙ্গে বিজেপিতে যোগদান করতে দেখে আপাতত এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে আম আদমি পার্টির অন্দরে।

    রাজ্যসভার ডেপুটি দলনেতার পদ থেকে রাঘবকে সরিয়ে অশোককেই তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন কেজরি। শুধু তা-ই নয়, গত এক বছর ধরে অশোকের বাড়িতেই সপরিবার থেকেছেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবারই তিনি সেই বাড়ি ছেড়ে দেন। ওঠেন দিল্লির এক সরকারি বাংলোয়। ঘটনাচক্রে, ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা পরেই আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন অশোক।

    ২০২২ সালে রাজ্যসভার সাংসদ হন অশোক। সেই সূত্রেই দিল্লির মান্ডি হাউসের কাছে ৫, ফিরোজ শাহ রোডের সরকারি বাংলো পেয়েছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে আবগারি দুর্নীতি মামলায় জামিনে জেলমুক্তির পরে সেই বাড়িতেই সপরিবার উঠেছিলেন কেজরি। আপ এখন জাতীয় দল। সেই সুবাদে দলের প্রধান হিসাবে সম্প্রতি দিল্লির লোধি এস্টেটে একটি সরকারি বাংলো পেয়েছেন কেজরি। শুক্রবার অশোকের বাংলো ছেড়ে ওই বাড়িতেই চলে যান কেজরি—সঙ্গে তাঁর পরিবার। তার অব্যবহিত পরে অশোকের দলবদলে প্রত্যাশিত ভাবেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে দিল্লির রাজনীতিতে।

    আপ নেতৃত্বের একাংশ যদিও এই ঘটনাকে নিছক কাকতালীয় বলেই মনে করছেন। তবে কারও কারও মত, সম্ভবত সৌজন্য বজায় রাখতেই অশোক এত দিন অপেক্ষা করেছেন। কেজরি লোধি এস্টেটের বাংলোয় চলে গেলেই তিনি দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেবেন বলে স্থির করে রেখেছিলেন। আর তা-ই করেছেন। অন্য অভিমতও রয়েছে। তা হলো: রাঘবের মতো অশোকও যে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন, সেই সম্ভাবনা কখনওই তৈরি হয়নি। রাঘবকে সরিয়ে অশোককে যখন রাজ্যসভায় দলের উপনেতার পদ দেওয়া হল, তখনও সব ঠিক ছিল। কিন্তু সম্ভবত পরিস্থিতি বদলায় দিন দশেক আগে অশোকের বিভিন্ন ঠিকানায় ইডির তল্লাশি অভিযানের পরে। ফলে তাঁর বিজেপিতে যোগদান খুব কম সময়ের মধ্যেই নেওয়া সিদ্ধান্ত।

    আপের অন্য অংশের মত, শুক্রবার রাঘবদের যোগদান করানোর সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপির। তারা চেয়েছিল কেজরিকে যতটা সম্ভব ধাক্কা দিতে! সম্ভবত সেই কারণেই কেজরির বাড়ি ছাড়ার দিনে ‘অত্যন্ত আস্থাভাজন’ অশোককে নিজেদের দিকে টেনে নিতে চেয়েছিল তারা। যদিও এ নিয়ে বিজেপি বা আপ কেউই আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি। কেজরিও এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেননি। তবে আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ শুক্রবার বলেন, ‘দিনে দুপুরে গণতন্ত্রের হত্যা হল। গোটা বিরোধী শিবিরের জন্য বিপদসঙ্কেত। বিজেপি বিরোধীশূন্য রাজনীতি চাইছে।’ প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার থেকে রাঘবের যে সব পুরোনো সাক্ষাৎকারের ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে সোশ্য়াল মিডিয়ায়, তার একটিতে তাঁকেও বলতে শোনা গিয়েছে এ কথা: ‘বিজেপি আসলে বিরোধীশূন্য় গণতন্ত্র চায়।’

  • Link to this news (এই সময়)