• ‘শিক্ষা-স্বাস্থ্য-চাকরি ফিরিয়ে দেব’, দাবি গৌরাঙ্গর
    আজকাল | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে মসনদে বসার লড়াইয়ের শঙ্খনাদ বেজে গিয়েছে। কোন রাজনৈতিক দল জয়ী হয়ে গঠন করবে রাজ্য সরকার। প্রথম দফার ভোটের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অপেক্ষা দ্বিতীয় দফার ভোট। লড়াইয়ের ময়দানে তৃণমূল, কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিআইএম-এর পাশাপাশি লড়াইয়ে ময়দানে নেমেছে এসইউসিআই। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রার্থী দিয়েছে তারা জনগণের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করার জন্য। তারই মধ্যে একটি কেন্দ্র কলকাতার শ্যামপুকুর বিধানসভা। আর এই বিধানসভার কেন্দ্রের এসইউসিআই মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক গৌরাঙ্গ খাটুয়া। টর্চ প্রতীকে লড়াইয়ের ময়দানে গৌরাঙ্গ। 

    রাজ্যের মানুষ তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে একাধিক ক্ষেত্রে তাঁরা বঞ্চিত। এই দাবি নিয়ে সমস্ত দলগুলিকে পিছনে ফেলে লড়াইয়ের ময়দানে কোমর বেঁধে নেমেছেন তিনি। আর সেই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এক বিরাট জনসভার আয়োজন করে এসইউসিআই। তাদের প্রধান দাবি, মানুষকে তারা তাদের মৌলিক অধিকার যে কোনও মূল্যে ফিরিয়ে দেবে ভোটের মাধ্যমে জনগণের আশীর্বাদে জয়ী হতে পারলে। 

    এদিনের এই সভায় এসইউসিআই এর অন্যান্য নেতৃত্বরা সভামঞ্চ থেকে বর্তমান শাসকদল তৃণমূলের বঞ্চনার কথা যেমন তুলে ধরেন, পাশাপাশি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার কথা এবং পূর্বের ৩৪ বছরের বাম অপশাসনের যে পশ্চিমবঙ্গের পরিণতি সেকথাও তারা তুলে ধরেন। একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে সমস্ত বিরোধী দলগুলিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। 

    গৌরাঙ্গও বর্তমান শাসকদল ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলিকে কড়া ভাষায় নিন্দা করেছেন। আজকাল ডট ইনের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূল বা বিজেপি হেভিওয়েট প্রার্থী হতে পারে। ওদের মাসল পাওয়ার থাকতে পারে কিংবা অনেক ক্ষমতা। কিন্তু তারা মানুষের জন্য কোনও কাজ করেনি। যোগ্য প্রার্থী নয় তাঁরা কেউ। কারও সঙ্গে আমাদের শত্রুতা নেই। কিন্তু তাঁরা একেবারেই অযোগ্য প্রার্থী। তাঁরা না তো কুমোরটুলির মানুষদের জন্য বা শিল্পীদের জন্য কোনও কাজ করেছে। আর না করেছে গঙ্গার পাড়কে ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ। বেসরকারি সংস্থার হাতে দিয়ে দিয়েছে গঙ্গার পাড় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য, যা নিয়ে আমরা আন্দোলন বহুদিন ধরে করে আসছি। কারণ গঙ্গার পাড় রক্ষণাবেক্ষণ তো সম্পূর্ণ সরকারের কাজ। বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে সেই কাজ করিয়ে কোনও সমস্যা সমাধান হয় না। এমনকি এখানকার বস্তি এলাকার মানুষের জীবনযাপনের মান উন্নত হয়নি। আমরা চাইছি তাদের মান উন্নত করতে।”

    তিনি আরও বলেন, “এছাড়াও শিক্ষা সমস্যায় একটি বড় সমস্যা। স্কুলগুলিতে বা কলেজগুলিতে ঠিকমতো হয় শিক্ষক নেই, না হলে ছাত্রছাত্রী নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় প্রাইমারি স্কুলগুলি প্রায়ই বন্ধ। আর এই এলাকার অর্থাৎ শ্যামপুকুর বিধানসভা এলাকায় যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পড়াশোনা করেছেন, বিদ্যাসাগর মহাশয়ের হাতে গড়া স্কুল রয়েছে। সেই এলাকায় শিক্ষার অবহেলা কেন হবে!”  তিনি প্রচারে আরও বলেন, “এখানে পাশেই রয়েছে ভগিনী নিবেদিতার বাড়ি, স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ি, নন্দলাল বসুর বাড়ি- এই ঐতিহ্যশালী জায়গাকে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বিগত বছরগুলিতে। আমাদের যেটা প্রধান কাজ হবে এলাকার শিক্ষা-সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা ও এলাকার স্কুল-কলেজগুলির মান উন্নত করা। এখানে যে প্রাইমারি হেলথ সেন্টারগুলি রয়েছে পাড়ায় পাড়ায়, সেগুলোর যেন মান বাড়ে সেদিকে নজর রাখা। মানুষ যেন ঠিকমতো পরিষেবা পায় সেদিকে নজর রাখা।”
  • Link to this news (আজকাল)