প্রাক্তন স্ত্রীকে সামনে দেখতে পেয়েই যা করলেন স্বামী.
আজকাল | ২৫ এপ্রিল ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথম দফার নির্বাচনে অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী থাকল শিলিগুড়ির মাটিগড়া-নক্সালবাড়ি বিধানসভা। গত ২৩ এপ্রিল এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছিলেন ভোটকেন্দ্রের বাইরে। স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হতেই যা করলেন ওই ব্যক্তি, তাতে হতবাক সকলে। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।
দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ এপ্রিল, শিলিগুড়ির মাটিগড়া-নক্সালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফাঁসিদেওয়ার তাঁরাবাড়ির তাঁরাবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্ত্রী ভোট দিতে আসবেন এই আশায় ওই ব্যক্তি সকাল থেকে বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির স্ত্রী অন্য এক পুরুষের সঙ্গে দু’বছর আগে পালিয়ে যান। তারপর থেকে তাঁদের মধ্যে কোনও কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতেন যে তাঁর স্ত্রী ভোট দিতে ফিরে আসবেন।
ভোটকেন্দ্রের (বুথ নং ২৫/২৩৮) লোকজন দিনের শুরুতেই লোকটিকে লক্ষ্য করেন। তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুপচাপ, কারও সসঙ্গে কথা না বলে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতা সত্ত্বেও তিনি সেখান অপেক্ষা করছিলেন। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে তাঁকে শান্ত ৃদেখাচ্ছিল, যেন তিনি নির্দিষ্ট কারও জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সময় গড়িয়ে গেল, কিন্তু বুথের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকলেন।
দুপুর ২টোর দিকে একজন মহিলা তাঁর ভোটার স্লিপ এবং ভোটার কার্ড নিয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছন। লোকটি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দিকে এগিয়ে যান, তাঁর ভোটার কার্ড ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, মহিলার চুল ধরে টানেন এবং পিছন থেকে তাঁকে জাপটে ধরেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মহিলাটি নিজেকে মুক্ত করার জন্য লড়াই করতে থাকেন, এরপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ছুটে এসে দু’জনকে আলাদা করে দেন। মহিলাটিকে উদ্ধার করা হয় এবং ব্যক্তিটিকে আটক করা হয়। তাঁকে থামানোর পর, ওই ব্যক্তি দাবি করেন যে মহিলার ভোটার কার্ড থেকে স্বামীর নাম হিসেবে তাঁর নাম মুছে না দেওয়া পর্যন্ত আধিকারিকরা যেন মহিলাকে ভোট দিতে না দেন।
পরে জানা যায় যে মহিলাটি তাঁর স্ত্রী ছিলেন। তিনি দু’বছর আগে ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন এবং এখন অন্য একজনের সঙ্গে থাকতেন। প্রাক্তন স্বামী ভেবেছিলেন যে তাঁর স্ত্রী নিশ্চয়ই ভোট দিতে আসবেন এবং এই মুহূর্তটির জন্যই অপেক্ষা করছিল।
নিরাপত্তাকর্মীরা ওই ব্যক্তির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। প্রায় ২০ মিনিট পর, তারা জানান যে মহিলাটি নিরাপদে ভোট দিয়েছেন এবং তারপর তাঁকে এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তিটি নিরাপত্তাকর্মী ও আধিকারিকদের উপর চিৎকার করতে করতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পোলিং অফিসাররা পরে বলেন যে তাঁরা এর আগে এমন ঘটনা কখনও দেখেননি। একজন আধিকারিক বলেন, “আমি ২৬ বছর ধরে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছি এবং এটি আমার জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা।”