বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আর চার দিন বাকি। তার আগে শনিবার কলকাতার শহিদ মিনার চত্বরের সভা থেকে তৃণমূলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। বিজেপির বিরুদ্ধে যে কংগ্রেসই লড়তে পারে সেই দাবি করে সোজাসুজি প্রশ্ন তুললেন, ‘আমাকে ইডি ৫৫ ঘণ্টা জেরা করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কতক্ষণ করেছে?’ রাহুলের (Rahul Gandhi) এই মন্তব্যকে অবশ্য পাত্তা দিচ্ছে না তৃণমূল। বরং তাঁকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার মনে করিয়ে দিলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় বিজেপিকে রুখে দিয়েছেন। লোকসভায় ওদের সাংসদ সংখ্যাও এখানে ১৮ থেকে ১২-য় নেমে এসেছে।’
এ দিন বিজেপি এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে কার্যত অলআউট আক্রমণে নামেন রাহুল। একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘জো হুজুরি’ করছেন বলে অভিযোগ তোলেন। অন্য দিকে, তৃণমূলকে নিশানা করেন দুর্নীতির অভিযোগে। রাহুল বলেন, ‘মোদী নিজেকে দেশভক্ত বলেন। নিজের ৫৬ ইঞ্চির ছাতি হলে, লোকসভায় যখন এপস্টিন আর আদানির কথা তুললাম, তখন পালালেন কেন?’ তাঁর অভিযোগ, ‘ট্রাম্প ফোন করলেই, ইয়েস স্যর বলে ফোন তোলেন মোদী।’ রাহুলের কথায়, ‘নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু কোনও দিন কাউকে স্যর বলেননি। তিনিই আসল দেশভক্ত।’
বাংলায় চাকরি, রোজগার, শিল্প কিছুই নেই বলে দাবি রাহুলের। এই সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ করলেন বার বার। রাহুলর কথায়, ‘বাংলায় রোজগার করতে হলে, তৃণমূল নেতার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে।’ তাঁর দাবি, ‘২০২১-এর ভোটের সময়ে মমতা বলেছিলেন, ৫ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীকে চাকরি দেব। মোদীও ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু কেউ কথা রাখেননি।’ বাংলায় ৮৪ লক্ষ যুবক-যুবতী বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন বলেও দাবি রাহুলের।
তৃণমূলের জন্যই বাংলায় বিজেপি মাথা তুলতে পেরেছে দাবি করে রাহুল বলেন, ‘তৃণমূল যদি আপনাকে চাকরি দিত, শিল্প ধ্বংস না করত, তা হলে বিজেপি এখানে ঢোকার সুযোগ পেত না।’ সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর আবেদন, ‘একবার কংগ্রেসকে জেতান। কংগ্রেস সরকার হলে দেখবেন, বিজেপির কী হাল করি।’ ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রার প্রসঙ্গও টানেন রাহুল। তাঁর কথায়, ‘আমি ভারত জোড়ো যাত্রা করেছিলাম। ৪ হাজার কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে ঘুরেছি। আর বিজেপি প্রতিদিন ভারত তোড়ো যাত্রা করে। পুরো দেশে হিংসা ছড়ায়। আর তৃণমূল রাজ্যে হিংসা ছড়ায়।’
রাহুলের অভিযোগকে অবশ্য পাত্তা দিতে রাজি নয় তৃণমূল। তাঁর সভা শেষ হতেই তৃণমূল মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘ন্যাশনাল হেরাল্ডের মালিকানা বদল নিয়ে মামলায় তাঁকে জেরা করেছিল ইডি। সেই প্রসঙ্গ টেনে অন্যকে জেরা করেনি কেন, প্রশ্ন তোলাটাই অর্থহীন। এই ধরনের অনুচিত, অযাচিত এবং অবাস্তব কথাবার্তার জন্যই কংগ্রেসের এই হাল হয়েছে।’ রাহুলকে ‘ক্যাজ়ুয়াল’, ‘পার্ট টাইম’ লিডার বলেও কটাক্ষ করেন জয়প্রকাশ। তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘২০২৪-এর নির্বাচনে বিজেপি মোটেই ভালো ফল করতে পারেনি। কারণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় তাদের রুখে দিয়েছিলেন। বিজেপির সাংসদ সংখ্যা ১৮ থেকে ১২-য় নেমে এসেছিল।’ কংগ্রেসের হালছাড়া মনোভাবের জন্যই বিজেপির বাড়বাড়ন্ত বলেও রাহুলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি জয়প্রকাশ।