• বিজেপিতে যোগ দিতেই ক্ষোভ, হরভজনের বাড়ির দেওয়ালে ‘গদ্দার’ লিখে দিলেন আপ কর্মীরা
    এই সময় | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের কাছে ৭-১ গোলে হেরে গিয়েছিল ভারতীয় হকি দল। রাগে, ক্ষোভে দলের গোলরক্ষক মীর রঞ্জন নেগির বাড়ির সামনে ‘গদ্দার’ লিখে দিয়েছিলেন সমর্থকরা। তার পরে চার দশক কেটে গিয়েছে। কিন্তু অবস্থা বদলায়নি। শনিবার বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার হরভজন সিংয়ের (Harbhajan Singh) উপর আছড়ে পড়ল ক্ষোভ। পাঞ্জাবের (Punjab) জলন্ধরে তাঁর বাড়ির বাইরে ‘গদ্দার’ লিখে দিলেন ক্ষুব্ধ সমর্থকরা ('Gaddar' sprayed on walls of Harbhajan Singh's house)। তবে খেলা সংক্রান্ত কোনও কারণে নয়, তিনি আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এটাই আপ সমর্থকদের রাগের কারণ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন হরভজনের বাড়ির সামনে চোখে কালো কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ দেখান আম আদমি পার্টির কর্মী-সমর্থকরা। তখনই বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারের বাংলোর দেওয়ালে কালো কালিতে ‘গদ্দার’ লিখে দেন কেউ। তবে বিক্ষোভের সময়ে হরভজন বাড়িতে ছিলেন না বলেই জানা গিয়েছে। ঘটনার পরেই ক্রিকেটারের বাড়ির সামনে সর্বক্ষণের নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করেছে পাঞ্জাব পুলিশ। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত হরভজনের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    শুক্রবার আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন রাঘব চাড্ডা। তাঁর হাত ধরেই পদ্মশিবিরে যাচ্ছেন আপের আরও ৬ সাংসদ। গতকালই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের উপস্থিতিতে পদ্মশিবিরে যোগ দিয়েছেন রাঘব, অশোক মিত্তল এবং সন্দীপ পাঠক। হরভজন সিংহ, স্বাতী মালিওয়াল, রাজিন্দর গুপ্ত ও বিক্রমজিৎ সাহনিও খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।

    বিক্ষোভের আগে আপ-ত্যাগী সাংসদদের ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। তাঁর অভিযোগ, ‘বিজেপি আপ-কে ভাঙার চেষ্টা করছে। পাঞ্জাবের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তারা।’ ২০২৭-এ পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। তার ঠিক আগে এই ঘটনা সীমান্ত পারের রাজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

    ভগবন্ত মান খুব একটা স্বস্তিতে নেই। পাঞ্জাবে আপ সরকার যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে বলে দাবি করেছেন হরিয়ানায় আপের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি নবীন জয়হিন্দ। তিনি দাবি করেন, ‘পাঞ্জাবের ২৮ জন বিধায়ক খুব শীঘ্রই দল ছাড়বেন।’ শুধু তাই নয়, দলত্যাগী সাংসদদের চরম অপমান করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেছেন, ‘কয়েক জনকে তো মারধরও করা হয়েছিল।’ এই নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে পাঞ্জাবের রাজনীতিতে।

  • Link to this news (এই সময়)