• গঙ্গার ঘাটে জড়িয়ে ধরে মোদীর ছবি, জিরাটের গৌরাঙ্গর পরিবার এখন সেলেব-পরিবার
    এই সময় | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • সুজয় মুখোপাধ্যায়

    বঙ্গের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হেভিওয়েট নেতাদের আনাগোনা বেড়েছে বাংলায়। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বাংলার একাধিক জায়গায় সভা করেছেন ইতিমধ্যেই। দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচার চলবে সোমবার বিকেল পর্যন্ত। ভোটপ্রচারের ফাঁকে একটু অন্যরকম জনসংযোগে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে। কখনও তাঁর হাতে ঝালমুড়ি, কখনও আবার গঙ্গাবক্ষে নৌকাবিহার। শুক্রবার গঙ্গাবক্ষে তাঁর নৌকাবিহারের ছবি এই মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। মাঝি গৌরাঙ্গ বিশ্বাসকে জড়িয়ে ধরে তোলা ছবি নিজেই পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর এর পরেই গৌরাঙ্গর হুগলির জিরাটের বাড়ির সামনে লোকজনের ভিড়। অনবরত ফোন আসছে ছেলের কাছে। ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ি বিক্রেতার যেমন খ্যাতির বিড়ম্বনা হয়েছিল, একেবারে সেই অবস্থা বিশ্বাস পরিবারেরও। গোটা পরিবারের সকলেই এখন তারকা।

    হুগলির জিরাটের গোপালপুর গ্রাম। সেই গ্রামেরই বাসিন্দা বছর ৭০-এর গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। এলাকার সবার কাছে কালু নামে পরিচিত তিনি। স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে তাঁর পরিবার। গৌরাঙ্গ প্রিন্সেপ ঘাটে নৌকা চালান। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলে শঙ্কর সংসারের বাকি সব দায়িত্ব সামাল দেন। শুক্রবার সকালের পর থেকে সেই শঙ্কর এখন ফোন রিসিভ করতে করতে নাস্তানাবুদ হয়ে যাচ্ছেন।

    এক সময়ে বলাগড়ের গঙ্গায় মাছ ধরে সংসার চালাতেন গৌরাঙ্গ। কিন্তু বছর ১৫ হলো কলকাতায় কাজ করেন। কারণ, এখন গঙ্গায় আর মাছের দেখা মেলে না। প্রিন্সেপ ঘাটে রোজই বহু মানুষ নৌকাবিহার করেন। চেনা ছবি। মাঝিদের আয়ও খারাপ হয় না। সেই করেই দোতলা বাড়ি করেছেন। বাড়ি ঘিরেছেন দেওয়ালে। যে দেওয়ালে ভোটের আগে ঘাসফুল-পদ্মফুল ফুটেছে পাশাপাশি।

    শঙ্কর জানান, তাঁর বাবার নৌকায় দেশের প্রধানমন্ত্রী উঠেছেন, তা তিনি ভাবতেই পারছেন না। প্রথমে তো বিশ্বাসই হচ্ছিল না তাঁদের। বন্ধুরা হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠাতেই বাবার নম্বরে ফোন করেন ছেলে। শঙ্করের কথায়, ‘আমাকে অনেকে ছবি পাঠাতে শুরু করে। পাড়াতেও খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর পরে আমি ফেসবুক খুলে দেখি বাবাকে জড়িয়ে রয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। আমরাও প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। বাবাকে অনেক বার ফোন করেছি। কিছুতেই ফোনে পাচ্ছিলাম না। পরে ফোন করে বাবা জানাল, অনেক মানুষ রয়েছেন। পরে ফোন করছি।’

    শঙ্কর গেঞ্জি তৈরির কাজ করেন। মহাজনের কাছ থেকে মাল আনেন। গেঞ্জি তৈরি করে আবার দিয়ে আসেন। একটা সময়ে তাঁর বাবার কাজ ছিল না। এর পরেই কলকাতায় যান পেটের তাগিদে। এখনও নিজের নৌকা নেই। অন্যের নৌকায় কাজ করেন। তবে বাবা-ছেলের আয়ে সংসার চলে যায়। গৌরাঙ্গর প্রতিবেশীরা জানান, তাঁদের পাড়ার লোকের নৌকায় দেশের প্রধানমন্ত্রী উঠেছেন। গোটা দেশ, গোটা বিশ্ব দেখছে। পড়শি হিসেবে এ তো তাঁদেরও গর্বের।

  • Link to this news (এই সময়)