২১ এপ্রিল বাংলায় প্রথম দফার ভোট সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম দফাতেই রেকর্ড ভোট। ৯০ শতাংশের উপরে যে ভোট পড়েছে, সে কথা আগেই জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এ বার কমিশনের তরফে চূড়ান্ত ভোটের হার জানানো হলো। ইতিহাসের সব রেকর্ডকে ভেঙে বাংলায় প্রথম দফার ভোট দানের হার হলো ৯৩.১৯ শতাংশ, শনিবার এমনই তথ্য় জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি ভোট পড়েছে কোচবিহার জেলায়, ৯৬.২ শতাংশ।
কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, প্রথম দফার ভোটে মোট ভোটার ছিলেন ৩,৬০,৭৭,৩০৪ জন। ভোট দিয়েছেন ৩,৩৬,২২,১৬৮ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১,৬৫,৪০,০৬৫। পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১,৭০,৮১,৮৪৯।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, এর আগে লোকসভা ও বিধানসভা মিলিয়ে বাংলায় সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড ছিল ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। ২০১১ সালে তিন দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল। সে বার রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। ভোটদানের হার ছিল ৮৪.৭২ শতাংশ। এ বারের প্রথম দফাতেই সেই রেকর্ড প্রায় ৮ শতাংশ ব্যবধানে ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে।
কোন জেলায় ভোটের হার কত
আলিপুরদুয়ার: ৯৩.২ শতাংশ
জলপাইগুড়ি: ৯৪.৭৬ শতাংশ
কালিম্পং: ৮৩.০৪ শতাংশ
দার্জিলিং: ৮৮.৯৮ শতাংশ
উত্তর দিনাজপুর: ৯৪.১৬ শতাংশ
দক্ষিণ দিনাজপুর: ৯৫.৪৪ শতাংশ
মালদা: ৯৪.৭৯ শতাংশ
মুর্শিদাবাদ: ৯৩.৬৭ শতাংশ
পূর্ব মেদিনীপুর: ৯২.৭৫ শতাংশ
পশ্চিম মেদিনীপুর: ৯২.১৯ শতাংশ
ঝাড়গ্রাম: ৯২.২৬ শতাংশ
পুরুলিয়া: ৯১.৫৯ শতাংশ
বাঁকুড়া: ৯২.৫৫ শতাংশ
পশ্চিম বর্ধমান: ৯০.৩২ শতাংশ
বীরভূম: ৯৪.৫১ শতাংশ
এ বার অপেক্ষা দ্বিতীয় দফার ভোটের। প্রথম দফার রেকর্ড ছাপিয়ে ২৯ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফায় মানুষ ভোট দেন কি না, এখন সে দিকেই নজর। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফায় যে সংখ্যক বডি-ক্যাম ব্যবহার করা হয়েছিল, তার থেকে অনেক বেশি সংখ্যায় বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে।
মূলত, এই বডি ক্যাম ব্যবহার করবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, স্পর্শকাতর বুথে থাকছে তিনটি করে ক্যামেরা। বুথের ভিতরে থাকবে দু’টি ক্যামেরা এবং বাইরে থাকবে একটি ক্যামেরা। দ্বিতীয় দফায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা হবে আরও কঠোর। দ্বিতীয় দফাতেও নির্বিঘ্নে অবাধ ভোট করানোই নির্বাচন কমিশনের একমাত্র লক্ষ্য।