মগরাহাট পশ্চিমে তৃণমূলে যোগ দিলেন কংগ্রেস প্রার্থী
আজকাল | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: মগরাহাট পশ্চিমের নির্বাচনী অঙ্কে হঠাৎই নতুন সমীকরণ। ভোটের ঠিক আগে, যখন রাজনৈতিক ময়দান ক্রমশ গরম হচ্ছে, তখনই কংগ্রেস শিবিরে বড় ফাটল। প্রার্থীই শিবির বদলে যোগ দিলেন তৃণমূলে। ঘটনাটি নিছক দলবদল নয়, বরং ভোটের আগে ক্ষমতার লড়াইয়ে কৌশলগত চাল হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল মাজিদ হালদার, যিনি এতদিন হাত চিহ্নে লড়াইয়ের মুখ ছিলেন, হঠাৎই ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখালেন। তৃণমূল প্রার্থী তথা কো-অর্ডিনেটর শামিম আহমেদের হাত ধরে তাঁর এই যোগদান। সঙ্গে রয়েছেন শতাধিক কংগ্রেস কর্মীও। উত্তর কুসুম গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু হওয়া এই দলবদল যেন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা মগরাহাট পশ্চিম জুড়ে।
সময়ের দিক থেকেও এই ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। তার আগেই এই রদবদল স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, মাঠের খেলা বদলাতে শুরু করেছে। তৃণমূলের দাবি, এটি কেবল রাজনৈতিক সুবিধা নয়, বরং “উন্নয়নের প্রতি আস্থা”-র প্রতিফলন। ডায়মন্ড হারবার মডেলের অনুপ্রেরণাতেই এই যোগদান, এমনটাই প্রচার শাসকদলের।
এখানেই শেষ নয়। রবিবার মগরাহাট পশ্চিমের উস্থিতে আসছেন অভিষেক ব্যানার্জি। তাঁর সভার আগেই এই দলবদল যেন রাজনৈতিক আবহে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। অনেকেই বলছেন, এটি কেবল একটি যোগদান নয়, বরং সভার আগে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করার একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ।সামিম আহমেদ নিজেও এই ঘটনাকে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে দেখছেন। তাঁর কথায়, "মানুষের সমর্থনই এখন সবচেয়ে বড় শক্তি, আর সেই শক্তিকে সংগঠিত করাই লক্ষ্য। শুধু প্রচার নয়, সংগঠনকে ভিতর থেকে মজবুত করার কাজ চলছে প্রতিদিন।"
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে এই ঘটনাকে ঘিরে অস্বস্তি বাড়ছে বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। কারণ, প্রার্থী হারানো মানে শুধু একটি মুখ হারানো নয়, তার সঙ্গে হারিয়ে যায় একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ক, একটি স্থানীয় প্রভাববলয়।
সব মিলিয়ে, মগরাহাট পশ্চিম এখন শুধুই একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়, এটি হয়ে উঠছে রাজনৈতিক কৌশল, দলবদল এবং ক্ষমতার সূক্ষ্ম লড়াইয়ের এক জীবন্ত ল্যাবরেটরি। ভোটের দিন যত এগোচ্ছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে, এই লড়াই শুধু ব্যালটের নয়, মাটির দখল নিয়েও।