• সাগরদিঘিতে আমি হারছি: বাইরন
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই নতুন বিতর্ক জঙ্গিপুরে। স্ট্রং রুমের সিসিটিভি ক্যামেরা দফায় দফায় বন্ধ থাকার অভিযোগ তুলে সরব হলেন সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস। তাঁর দাবি, এটি কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং পরিকল্পিত চক্রান্ত, যার নেপথ্যে রয়েছে দিল্লির নির্দেশ।

    অভিযোগ, শুক্রবার গভীর রাতে জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজে থাকা স্ট্রং রুমের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা একাধিকবার বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতেই সেখানে পৌঁছন বাইরন বিশ্বাস। তিনি দাবি করেছেন, শুধু ক্যামেরাই নয়, দীর্ঘক্ষণ স্ট্রং রুমের আলোও নিভিয়ে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বরত কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ।

    বাইরন বিশ্বাসের কথায়, ‘এটা টেকনিক্যাল ফল্ট নয়, দিল্লির ফল্ট। বাংলায় আর ভোটের দরকার নেই— আমরা কোথায় হারছি, তা বুঝে গিয়েছি।’ তাঁর অভিযোগ, জঙ্গিপুর, সামশেরগঞ্জ ও ফরাক্কার তৃণমূল প্রার্থীদের হারানোর উদ্দেশ্যেই এই ধরনের কারসাজি করা হচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, ভোটের দিনও সাগরদিঘিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন বাইরন। অভিযোগ, নিজের বুথে ভোট দিতে গেলে তাঁকে একাধিকবার তল্লাশি করা হয়, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সেই উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সামনে এল।

    বাইরনের দাবি, রাতেই তিনি মহকুমা শাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রথমে তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে সকালে সমস্যার সমাধান করা হবে। তবে তিনি তা মেনে না নিয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে প্রায় আধঘণ্টার মধ্যে ক্যামেরা পুনরায় চালু করা হয় বলে জানা যায়।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল শিবিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দলের স্থানীয় নেতৃত্বও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি খলিপুর রফমান বলেছেন, ‘স্ট্রং রুমের মতো সংবেদনশীল জায়গায় ক্যামেরা বন্ধ থাকা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। এতে স্পষ্ট, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিল্লির নির্দেশে কাজ করছে।’

    তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ আকারে জানানো হবে। অন্যদিকে, প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)