১৯৯২ সাল। খুব অল্প বয়সেই মৃত্যু হয় বাবা ও মায়ের। প্রায় বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হারান দু’জনে। তাঁদের হারানোর যন্ত্রণা আজও যেন ধাক্কা দেয় হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে (Hiran Chatterjee)। যাতে আর কাউকে বিনা চিকিৎসায় প্রাণ না হারাতে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখাই লক্ষ্য বিজেপির তারকা প্রার্থীর। ছাব্বিশের ভোটে জিতলে শ্যামপুরে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরির আশ্বাস দিলেন তিনি। সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় হিরণ জানান সেকথা।
তিনি বলেন, “১৯৯২ সালে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বলতে প্রায় কিছুই ছিল না। আমরা খুব গরিব ছিলাম। বাবা-মাকে দেখেছি কীভাবে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে দৌড়েছেন। অথচ কোনও চিকিৎসা পাননি। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। আজও ছবি একইরকম। কোনও বদল হয়নি। এবার ভোটে জিতলে শ্যামপুরে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল খোলা হবে। তাতে এলাকার মানুষজন উপকৃত হবেন। বিনা চিকিৎসায় আর প্রাণ হারাতে হবে না কাউকে।”
প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় বিয়ে সেরে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন খড়গপুরের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। যার জেরে প্রথম পক্ষের স্ত্রী-সন্তানের দায়ের করা অভিযোগে আইনি জটিলতাতেও পড়তে হয় তাঁকে। ফলত, দ্বিতীয় বিয়ে বিতর্কের জেরে ছাব্বিশের ভোটে তিনি টিকিট পাবেন কি না, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা ছিল।
তবে মার্চের ১৯ তারিখ পদ্মশিবিরের দ্বিতীয় প্রার্থীতালিকা প্রকাশ্যে আসতেই দেখা যায় শত বিতর্ক সত্ত্বেও হিরণের উপর ভরসা হারায়নি দল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে হাওড়ার শ্যামপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির ‘তুরুপের তাস’ তিনি। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় আদা-জল খেয়ে প্রচারে নেমে পড়েন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। শনিবার তারকা প্রার্থীর হয়ে শ্যামপুরে রোড শো করেন অমিত শাহ। হিরণের বিপরীতে লড়ছেন তৃণমূলের নদেবাসী জানা, শেষমেশ জয়ের হাসি কে হাসেন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।