• যোগীর হেলিকপ্টার দেখেই ফিরে গেল জনতা, শমীকের সভায় জমল না ভিড়
    বর্তমান | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও সংবাদদাতা, বনগাঁ, কল্যাণী, উলুবেড়িয়া: আয়োজন সার! লোকের দেখা নেই বিজেপির সভায়। কপালের ভাঁজ ক্রমশ চওড়া হচ্ছে গেরুয়া শিবিরের। শনিবার বাগদার বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুরের সমর্থনে সভা করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। হেলেঞ্চা কলাবাগানে তাঁর সভা ছিল। কিন্তু হেলিকপ্টার দেখেই ফাঁকা হল সভাস্থল। যোগীর ভাষণ শুনলেন না সভায় আসা মানুষ। এদিন সকাল থেকে সভাস্থলে মানুষ আসতে শুরু করেন। তবে সভাস্থলে যাওয়ার থেকেও হেলিকপ্টার দেখার জন্য তাঁদের উৎসাহ ছিল বেশি। দুপুর তিনটে নাগাদ অস্থায়ী হেলিপ্যাডে নামে যোগীর হেলিকপ্টার। পুলিশি নিরাপত্তা পেরিয়ে হেলিকপ্টার দেখতে সকাল থেকে অপেক্ষা করেন বাসিন্দারা। কপ্টার নামতেই ফাঁকা হতে শুরু করে সভাস্থল ও আশপাশের ভিড়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে যোগী উত্তরপ্রদেশের উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। মতুয়াদের উদ্দেশে বলেন, উত্তরপ্রদেশে অনেক মতুয়া আছেন। তাঁরা সিএএতে আবেদন করে নাগরিকত্ব পেয়েছেন। নরেন্দ্র মোদির আমলে মতুয়ারা সুরক্ষিত।

    কল্যাণী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অনুপম বিশ্বাসের সমর্থনে মদনপুরের জঙ্গলগ্রামে শনিবার জনসভায় যোগ দিতে আসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। প্রথমদিকে মাঠ ছিল ফাঁকা। দুপুর ১টায় সভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, ভিড় না থাকায় শুরু করা যায়নি। শমীক ভট্টাচার্য দুপুর ২টো নাগাদ হেলিকপ্টারে এসে পৌঁছন এবং সরাসরি স্থানীয় এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে যান। তখন পর্যন্ত সভাস্থল প্রায় ফাঁকা ছিল। কয়েকজন কর্মী সমর্থক থাকলেও তারা অত্যধিক গরমের কারণে আশেপাশের গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। বারবার মাইকে ঘোষণা করায় লোকজন জড়ো হতে শুরু করেন। বিকেল প্রায় ৩টে নাগাদ মাঠ কিছুটা ভরার পর সভা শুরু হয়। মঞ্চে উঠে শমীক ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে। তখন মানুষকে ভিনরাজ্যে যেতে হবে না। 

    হাওড়ার শ্যামপুরের শশাটি বাজারে শ্যামপুরের বিজেপি প্রার্থী হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে বিজয় সংকল্প সভায় বক্তব্য রাখেন অমিত শাহ। বেশ কয়েক দফা প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সন্ধ্যায় তিনি রামরাজাতলার রাম মন্দির থেকে নতুন রাস্তার মোড় পর্যন্ত রোড শো করেন। সঙ্গে ছিলেন শিবপুর ও হাওড়া দক্ষিণ কেন্দ্রের দুই বিজেপি প্রার্থী। শুরুতে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি চোখে পড়লেও শেষদিকে সেরকম লোক দেখা যায়নি। সংকীর্ণ রাস্তায় ভিড় বাড়িয়ে চমক দেওয়ার চেষ্টা কার্যত বিফলে গেল বিজেপির। প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে রোড শো শুরু করার ফলে রামরাজাতলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
  • Link to this news (বর্তমান)