• ডবল ইঞ্জিনে বিজেপির দুর্নীতি বনাম মোদিজির বাংলা বিদ্বেষ!
    বর্তমান | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • মৃণালকান্তি দাস: ক্ষমতায় আসার পর প্রতিটি ভোটে দুর্নীতি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ‘গল্প’ শোনান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির ইস্তাহারেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, দুর্নীতির সঙ্গে আর আপস নয়। ২০১৪-এর লোকসভা ভোট থেকে শুরু করে ২০২৬-এর বাংলার বিধানসভা ভোট— এটাই নাকি মোদির ‘গ্যারান্টি’!

    অথচ, ২০২৪-র লোকসভা ভোটের পর গোটা দেশ দেখেছিল, নিজের সরকার টিকিয়ে রাখতে ১১৪ কোটির ফাইবারনেট দুর্নীতি মামলায় জড়িত তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি)-র প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডুকে বুকে টেনে নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ততদিনে তামাম দেশবাসী জেনে গিয়েছিল, অন্ধ্র পুলিশের সিআইডির তরফে বিজয়ওয়াড়া এসিবি আদালত পেশ করা চার্জশিটের কথা। যেখানে লেখা ছিল, ‘চন্দ্রবাবুই মূল চক্রী।’ কিন্তু তাতে কী যায় আসে! বিজেপির ওয়াশিং মেশিনে ঢোকামাত্র চন্দ্রবাবু হয়ে গেলেন ‘ধোয়া তুলসীপাতা’! ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর ইডি, সিবিআই যাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত-তল্লাশি চালিয়েছিল, তাঁদের ৯৫ শতাংশই বিরোধী দলের। হিমন্ত বিশ্বশর্মা থেকে প্রফুল্ল প্যাটেল—কে নেই সেই তালিকায়। পশ্চিমবঙ্গেও যে কত দুর্নীতিবাজ ‘ধোয়া তুলসীপাতা’ হওয়ার চেষ্টা করেছে, তা বাংলার মানুষের কাছে আর গোপন নেই। এভাবেই কোটি কোটি টাকার দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নেতাদের দলে টেনেছে বিজেপি। দেওয়া হয়েছে ‘ক্লিনচিট’ও। সেই প্রধানমন্ত্রী এখন বাংলায় এসে দুর্নীতিমুক্ত রাজ্যের গল্প শোনাচ্ছেন! বাংলা তাঁকে বিশ্বাস করবে কেন?

    গত এক দশকে কেন্দ্র ও ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি এবং অনিয়মের বিবরণ যোগ করলে, তার পরিমাণ ১০ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। শুধু একশো দিনের কাজেই বিজেপি শাসিত ১৫ রাজ্যে ১০১ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে! এই প্রকল্পে ৭৫ কোটির দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে গুজরাতের মন্ত্রী বাচুভাই খাবাড়ের দুই ছেলের বিরুদ্ধে। মধ্যপ্রদেশে বিজেপি আমলের ব্যাপম দুর্নীতি এখন অতীত। সম্প্রতি সেই রাজ্যেই ২৩০ কোটি টাকার বিশাল দুর্নীতির পর্দাফাঁস হয়েছে। হদিশ মিলেছে ৫০ হাজার ভুতুড়ে সরকারি কর্মচারীর। এই বিপুল পরিমাণ সরকারি টাকা কোথায় গেল? এই সব রাজ্যে দুর্নীতির প্রশ্নে কেন ইডি-সিবিআই চোখ বন্ধ করে থাকে? এরপরও মোদি-শাহদের ভরসা করবে বাংলার মানুষ?

    ডবল ইঞ্জিন রাজ্য উত্তরপ্রদেশেও যোগীর আমলে ৬৯,০০০ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিপুল বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সাত বছর পেরিয়ে গেলেও আইনি জটে হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। এই সব রাজ্য তো মোদি-শাহদের খাসতালুক। দুর্নীতির প্রশ্নে তাঁরা নিজেদের যতই ধোয়া তুলসীপাতা হিসেবে তুলে ধরুন না কেন, বাংলার মানুষ জানে, এদেশে প্রথম সারির দুর্নীতিবাজ রাজ্যগুলিতে বিজেপিই সরকারে। এরপরও তাঁরা বাঙালিকে ভরসা জোগাবেন কীসের ভিত্তিতে?

    লক্ষ্য করুন, ভোট প্রচারে প্রধানমন্ত্রীর মুখে আর শোনা যায় না তাঁর বিখ্যাত স্লোগান: ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’। আসলে ‘না খাউঙ্গা’ কথাটাই তিনি ভুলে গিয়েছেন, বলছে বাংলা।
  • Link to this news (বর্তমান)