সংবাদদাতা, বজবজ: শনিবার দুপুর সোয়া দুটো নাগাদ মহেশতলা পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সন্তোষপুর স্টেশন কেবিনের পিছনে যোলো বিঘা বস্তিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, সেখানে একটি ঘরে রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডার লিক করে আগুন লেগে যায়। তখন জোরে বাতাস বইছিল। ফলে আগুন হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে লাগোয়া টিন, বাঁশ ও বেড়ার তৈরি ঘরে। তীব্র রোদে এমনিতেই তেতে ছিল চারপাশ। ফলে আগুন আরও দ্রুত গ্রাস করে নেয় বস্তির ঘরগুলিকে। এরমধ্যেই ছ’ থেকে সাতটি ঘরের ভিতরে এক এক করে সাত থেকে আটটি সিলিন্ডার বিকট শব্দে ফেটে যায়। তাতে আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। গলগল করে বেরতে থাকা কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় গোটা আকাশ। অন্ধকার হয়ে যায় গোটা সন্তোষপুর স্টেশন ও সংলগ্ন যোল বিঘা বস্তিসহ এলাকা।
সব মিলিয়ে ৯০ থেকে ১০০টি ঘর আগুনে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তরা দৌড়ঝাঁপ করে জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি। কেউ অগ্নিদগ্ধ ঘর থেকে কোনো জিনিসও বার করতে পারেননি। টাকা, জামাকাপড়, খাদ্যদ্রব্য থেকে আসবাবপত্র– সব আগুনে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় মহেশতলা থানার পুলিস। পাশাপাশি দমকলের আটটি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নেভাতে তৎপর হয়। তাদের এক ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। যদিও বস্তির কোনও ঘর বাঁচানো যায়নি। সব পুড়ে কালো ছাইয়ের স্তুপ হয়ে যায়।
এদিকে ঘটনার ঠিক আগে বজবজ শাখার একটি ডাউন ট্রেন সন্তোষপুরের ওই লাইন দিয়ে যায়। যদিও ট্রেনের গায়ে আগুনের কোনো আঁচ লাগেনি। কিন্তু যোলবিঘার গায়েই রেললাইন থাকায় আগুনের তীব্র হলকা এসে ওভারহেড তারকে গ্রাস করে। তাতে ওভারহেড তার গলে গিয়ে ছিঁড়ে পড়ে। তখনই লাইনের উপর দিয়ে মাঝবয়সি এক যুবক যাচ্ছিলেন। আচমকা সেই তার পড়ে তাঁর গা ঝলসে যায়। তিনি এখন এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই আগুনের জেরে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত সন্তোষপুর থেকে বজবজ ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পাশাপাশি সন্তোষপুর স্টেশনের রেলগেট বন্ধ হয়ে যাওয়াতে পথচারীদের নাজেহাল হতে হয় দীর্ঘ সময়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শুভাশিস দাস, চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল তাপস হালদারসহ সমস্ত কাউন্সিলার এবং ভাইস চেয়ারম্যান। পরে হাজির হন মেটিয়াবুরুজের তৃণমূল প্রার্থী হাজি আব্দুল খালেক মোল্লা। এদিন সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একটি লঙ্গরখানাও খোলা হয়।