হাত ভাঙল কীভাবে? বৃদ্ধের খোঁজ নিলেন ‘পাড়ার মেয়ে’
বর্তমান | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাঁসারিপাড়ার সরু গলি দিয়ে হাঁটছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সামনে-পিছনে বিশাল পুলিশ বাহিনী। নিরাপত্তার খাতিরে সেটুকু বাদ দিলে তাঁকে দেখে কে বলবে যে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী! প্রতি মুহূর্তে ভবানীপুরের মানুষের সঙ্গে তাঁকে যেভাবে মিশে যেতে দেখা গেল, তাতে বাংলার অগ্নিকন্যার ‘ঘরের মেয়ে’ ইমেজই উজ্জ্বলতর হল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শনিবার বিকালে নিজের কেন্দ্রে প্রচার সারেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুরের কাঁসারিপাড়ায় হেঁটে জনসংযোগ সারেন তিনি। শম্ভুনাথ পন্ডিত স্ট্রিট থেকে মিছিল তখন কাঁসারিপাড়া পৌঁছেছে। টার্ফ রোডের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়েছিলেন এক বৃদ্ধ। তাঁর হাতে প্লাস্টার। প্রিয় নেত্রীকে দেখতে রাস্তার দু’পাশে তখন থিকথিকে ভিড়। সেই ভিড়ে মধ্যেও মমতার নজর এড়ায়নি বৃদ্ধের ভাঙা হাত! বিষয়টি চোখে পড়তেই নেত্রী এগিয়ে যান তাঁর দিকে। জিজ্ঞাসা করেন, ‘হাত ভাঙল কীভাবে?’ প্রাথমিক বিহ্বলতা কাটিয়ে বৃদ্ধ জানান, পড়ে গিয়ে তাঁর হাত ভেঙেছে সপ্তাহ দেড়েক আগে। তাঁর অন্যান্য শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই অবস্থায়ও এসেছেন। আশীর্বাদ করবেন। আপনি আগে সুস্থ হয়ে উঠুন।’ এমন দৃশ্যের সাক্ষী হতে পেরে আপ্লুত রাস্তার দু’পাশের ভিড়ও।
শনিবার ভবানীপুরে পাড়ায় প্রায় দেড় কিলোমিটার মিছিল করেন তিনি। পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে ৮ থেকে ৮০—সবাই একবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে রাস্তায় দাঁড়ান। বেশিরভাগের হাতে ছিল মুঠোফোন। এক হাত দূরে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা ফোন বন্দি করে রাখতে ছাড়েননি তাঁরা। সেই সঙ্গে ‘দিদি’-কে একবার ছুঁয়ে দেখার আবদার ছিল অনেকের। কাউকে নিরাশ করেননি মমতা।
টার্ফ ভিউ রোডে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে ছিল ৯ বছরের শিশুকন্যা বেদদ্রোহী দাস। তার কাছেও মমতা ‘দিদি’! প্রচারের পথে তাঁকে দেখেও এগিয়ে যান মমতা। তার মাথায় হাত দিয়ে বলেন, ‘ভালো থেকো।’ সেই দৃশ্য ফোনের ক্যামেরায় বন্দি করতে ভুল করেননি বেদদ্রোহীর মা। এদিনের রোড-শোতে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সবুজ পাড় সাদা শাড়ির ‘ড্রেস কোড’ মেনে অনেকে যোগ দিয়েছিলেন মমতার মিছিলে। সবার মুখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। এদিনের মিছিলে বাঙালি-অবাঙালি শিখ সম্প্রদায়ের বহু মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেন। সব মিলিয়ে মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনকে পুঁজি করে তৃণমূলের ভোটবাক্স উপচে পড়বে বলেই আত্মবিশ্বাসী জোড়াফুল শিবির।