কেউ বললেন-মা আসছে, কেউ বলেন-আমার দিদি, মানুষের আরও কাছে যেতে বাইকে মমতা
বর্তমান | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছিল একরকম। তবে তাতে আচমকা বদল। পদযাত্রার সময় পথচলতি এক যুবককে ডেকে নিয়ে তাঁর বাইকে উঠলেন। ঘুরলেন উত্তর দমদমের পথে। নিরাপত্তা বলয় ছিন্ন করে বাইকে বসে মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন। আরও একবার উত্তর দমদমের আপামর জনতার হৃদয় জয় করলেন। তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিতে হিমশিম খেলেন শহর তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এইরূপ পরিকল্পনা বদলে অবশ্য আশ্চর্যের কিছু দেখছেন না তৃণমূলের পোড় খাওয়া নেতা-কর্মীরা। সকলেরই বক্তব্য, মানুষকে কাছে টেনে নেওয়ার জনমোহিনী ক্ষমতা নেত্রীর থেকে ভালো আর কারও নেই। মানুষের মন পড়তে ওঁর এক সেকেন্ডও লাগে না।
ভোটে টানা প্রচার করে চলেছেন মমতা। তার মধ্যেও উত্তর দমদমে হেঁটে ও বাইকে উঠে তাঁর এই অভিনব কর্মসূচি চলে এসেছে প্রতিটি মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে। জয় করে নিয়েছে সবার হৃদয়।
শনিবার বিকেল চারটে নাগাদ উত্তর দমদমের বণিক মোড় থেকে পদযাত্রা করার কথা ছিল মমতার। মোড়ে হয়েছিল অস্থায়ী ক্যাম্প অফিস। নেত্রীর অপেক্ষায় বসে তৃণমূল প্রার্থী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও উত্তর দমদম ও নিউ বারাকপুরের তৃণমূল নেতৃত্ব। বিশাল দু’টি ধামসা, সাঁওতালি নৃত্যশিল্পী, ঢাকি, অন্যান্য বাজনা সহ ছিল বিপুল আয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী আসার খবর মেলামাত্র নাচ শুরু করেন শিল্পীরা। সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন প্রার্থী, নেতারা। হঠাৎ খবর আসে, রাস্তার দু’দিকে বিপুল সংখ্যক মানুষ দেখে তৃণমূল সুপ্রিমো গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা শুরু করেছেন। নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, মুখ্যমন্ত্রী হাঁটছেন সিদ্ধেশ্বরী বাজার এলাকায়। এরপর বণিক মোড় থেকে দৌড়তে শুরু করেন প্রার্থী সহ অন্যান্যরা। কোনওমতে নেত্রীর কাছে পৌঁছন এবং হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন।
বিরাটি মোড়ের দিকে শুরু হয় পদযাত্রা। এমবি রোডের দু’পাশে তখন জনতার ঢল। কেউ শাঁখ বাজাচ্ছেন, কেউ দিচ্ছেন উলুধ্বনি, উঠছে জয় বাংলা স্লোগান। দু’দিকের বাড়ির বারান্দা, ছাদে মানুষের ভিড়। বণিক মোড়ে বহু মানুষ দাঁড়িয়ে রয়েছেন, চন্দ্রিমার কাছ থেকে জানতে পারেন মমতা। তারপর হাঁটতে হাঁটতে মুখ্যমন্ত্রী মন বদল করে কলাবাগান মোড়ে রাস্তার ধারে বাইকে নিয়ে দাঁড়ানো এক যুবককে ডেকে নেন। তারপর সবাইকে চমকে দিয়ে যুবকের বাইকে উঠে বসেন। মোড় থেকে ঘুরে তিনি ফের বিরাটি মোড়ের দিকে এগন। রাস্তার দু’দিকে তখন কার্যত জনপ্লাবন। কেউ ডাকছেন ‘দিদি’, কেউ বলছেন ‘মা’। জনতার আবেগের বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। মমতা উৎসাহী জনতার দিকে হাত নাড়েন, নমস্কার জানান। অন্য একটি বাইকে এগন চন্দ্রিমাদেবীও। এরপর বিরাটি মোড় থেকে ভবানিপুরের দিকে রওনা দেন মমতা। চন্দ্রিমাদেবী পরে জানান, পদযাত্রার সময় উনি অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন বলে শুনতে পান। তাই আচমকা বাইকে বণিক মোড় চলে যান। সেখান থেকে ঘুরে বিরাটি মোড় পৌঁছন। বলে গিয়েছেন, আমি জেতার পর ফের বিরাটি আসবেন। তখন বড়ো জনসভা করবেন।