বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কোন্নগর: উত্তরপাড়াকে কেন্দ্র করে হুগলি ও অন্যান্য জেলায় শিল্পায়নের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে কোন্নগরে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি হিন্দমোটর কারখানার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বলেন, ওই কারখানার জমিতে ৪০ একর এলাকা জুড়ে মেট্রোর কোচের ফ্যাক্টরি হয়েছে। শিল্পায়ন হয়েছে সিঙ্গুর ও ডানকুনিতে। রাজ্যেজুড়ে ছ’টি ইকনোমিক করিডর তৈরি হচ্ছে। দেউচা-পাঁচমিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোল কমপ্লেক্স তৈরি হচ্ছে। এই প্রকল্পটি তৈরি হয়ে গেলে এখানে এক লক্ষ ছেলেমেয়ের চাকরি হবে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলায় লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে। সেই শিল্পায়ন যে সাধারণ মানুষের নজরে আসছে, তা বুঝিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হুগলি থেকে জাতীয় সড়ক ধরে বর্ধমানের দিকে গেলে, রাস্তার দু’ধারে দেখা যাবে কীভাবে শিল্পায়ন হয়েছে। একসঙ্গেই তাঁর বার্তা, জঙ্গলমহল এলাকায় তিনি যে জঙ্গল সুন্দরী শিল্পনগরী গড়ে তুলেছেন, সেখানে ৭২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে। শালবনীতে নতুন করে তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে, জানান তিনি। বিদ্যুতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাম আমলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লোডশেডিং হত। সেই দুর্দিন এখন কেটেছে। জনগণের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বান, এর জন্য অন্তত আমাকে কৃতিত্ব দিন!
শিল্পায়নের পাশাপাশি এদিন ধর্মীয় স্থানগুলির উন্নয়নের প্রসঙ্গ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুগলির অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র মাহেশকে সামনে রেখে যে উন্নয়ন হয়েছে, সে কথা সামনে এনে তিনি প্রশংসা করেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পাশাপাশি তারকেশ্বর মন্দিরের ভোলবদল, সেখানে লাখো পুণ্যার্থীর আসা যাওয়ার ব্যবস্থাপনা থেকে জেলার অন্যান্য তীর্থস্থানগুলিরও যে উন্নয়ন হয়েছে তাঁর আমলেই, সেকথা মনে করিয়ে দেন। ফুরফুরা শরিফ থেকে জয়রামবাটি, কামারপুকুর, চাকলা, কচুয়ার মতো সর্বত্রই সেই উন্নয়ন ছড়িয়ে গিয়েছে, তা জানান তিনি। দীঘার জগন্নাথ মন্দির, কালীঘাটের স্কাইওয়াক, দক্ষিণেশ্বরের লাইট অ্যান্ড সাউন্ড বা স্কাই ওয়াকের প্রসঙ্গ এনে বিজেপিকে খোঁচা দেন মমতা। বলেন, ওরা হিন্দুদের সর্বনাশ করছে। কোন্নগরের সঙ্গে যে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক, তা এদিন সভার শুরুতেই বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, বহুবার আমি এখানে এসেছি। এমনকি, যে জোড়াপুকুর মাঠে জনসভাটি হচ্ছে, তার উন্নয়নের জন্য একসময় ২০ লক্ষ টাকা সাংসদ তহবিল থেকে দিয়েছি। মঞ্চে উপস্থিত উত্তরপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক প্রবীর ঘোষালের প্রশংসা শোনা যায় মমতার গলায়।