এই সময়: সল্টলেকের এসি ব্লকে নিজের বাড়িতে একাই থাকেন নবতিপর অশোকা বসু। তাঁর দুই মেয়েই প্রবাসী। বৃদ্ধার দেখভালের জন্য জনা তিনেক পরিচারিকা রয়েছেন। বৃদ্ধা অশোকা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন ২০২১-এও। ২০২৪–এ অবশ্য অসুস্থতার কারণে ভোট দিতে যেতে পারেননি। তবে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে শনিবার নিজের বাড়িতে বসেই পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিলেন তিনি।
একশো ছুঁই ছুঁই যূথিকা মজুমদার ভালো শুনতে পান না, চোখের দৃষ্টিও ঝাপসা হয়ে এসেছে। এ দিন লাবণী আবাসনের চার তলার ফ্ল্যাটে তাঁরও ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করেছিল কমিশন। কাঁপা হাতে কোনওরকমে নিজের নাম সই করে, ভোট দিলেন তিনি। এই বৃদ্ধার পুত্র শুভময় মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এমন উদ্যোগ নিয়েছে বলে মা এই বয়সেও নিজের ভোটটা দিতে পারলেন।’
আবার সল্টলেকের এই ব্লকে নিজের স্টুডিয়োর ঘরে বসে ভোট দিলেন প্রবীণ ভাস্কর নিরঞ্জন প্রধান। তিনিও প্রথমবারই এ ভাবে বাড়িতে বসে ভোট দিলেন। তাঁর কথায়, ‘নির্বাচন কমিশনের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়।’ তবে এখন শুধুমাত্র ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণ ভোটারদের জন্যই বাড়ি বসে ভোটদানের ব্যবস্থা করেছে নির্বাচন কমিশন। নিরঞ্জনের স্ত্রীর বয়স এখনও ৮৫ বছর না–হওয়ায় তিনি বাড়িতে বসে ভোটদানের সুযোগ পাননি। তাই খানিকটা হতাশ গলায় বৃদ্ধ বলেন, ‘আমার স্ত্রীও অসুস্থ। ওঁর ভোটটাও বাড়িতে বসে নেওয়া গেলে ভালো হতো।’
নির্বাচন কমিশনের হিসেব অনুযায়ী, ৮৫ পেরনো এমন হাজার দেড়েক ভোটার রয়েছেন সল্টলেকে। সাম্প্রতিক অতীতে একাধিক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, সল্টলেক নিঃসঙ্গ প্রবীণ নাগরিকদের ঠিকানা হয়ে উঠেছে। এই প্রবীণ নাগরিকদের বেশির ভাগই বুথে যাওয়ার অবস্থায় নেই। কমিশন বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করে এমন ভোটারদের ঘরে বসেই ভোটদানের ব্যবস্থা করেছিল। ২৯ এপ্রিল, বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফায় ভোট হওয়ার কথা। এই দফাতেই ভোট রয়েছে বিধাননগরে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার ২,০৩,৮৭৭। শনিবার সকাল থেকে ৪০টিরও বেশি দলে বিভক্ত হয়ে এই প্রবীণ নাগরিকদের ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করতে বের হন নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা।