• ভাঙড়ে ৫০ হাজার বাড়ি তৈরির আশ্বাস অভিষেকের
    এই সময় | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, ভাঙড়: শওকত মোল্লা ভোটে জিতলে আগামী তিন বছরে ভাঙড়ে ৫০ হাজার বাড়ি বানিয়ে দেবে রাজ্য সরকার। শনিবার ভাঙড়ে ভোটের প্রচারে এসে এমনই আশ্বাস দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের ব্যাখ্যা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ৩১টি বিধানসভা আসনের মধ্যে তৃণমূলের একমাত্র গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাঙড়। ২০২১–এর পর থেকে এই বিধানসভা চলে গিয়েছে আইএসএফের দখলে। সেই ভাঙড় পুনরুদ্ধারের জন্য এখন মরিয়া শাসকদল। তার জন্যই ভোটের মুখে ভাঙড়ের জন্য একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তৃণমূল নেতারা।

    একটা সময় ভাঙড়ে তৃণমূলের দৌর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা ছিলেন আরাবুল ইসলাম। বছর তিনেক আগে আরাবুলকে সরিয়ে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লাকে ভাঙড়ের দায়িত্ব দেয় দল। এ বার শওকতকেই ভাঙড় কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে শওকতের সমর্থনে ভাঙড়ে সভা করে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আপনারা শুধু ভাঙড়ে শওকতকে জেতান, শওকত যা চাইবে, তাই করে দেব ভাঙড়ের জন্য।’ তা থেকে আরও একধাপ এগিয়ে এ দিন ভাঙড়ের শোনপুরে শওকতের হয়ে প্রচারে এসে ৫০ হাজার বাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘শওকত ভাঙড়ের জন্য ৫০ হাজার ঘর চেয়েছে। আপনারা ওকে জেতান, আমি কথা দিলাম, ভাঙড়ে তিন বছরে ৫০ হাজার ঘর তৈরি করে দেব।’ তাঁর দাবি, ‘শওকতকে জোর করে ভাঙড়ে দাঁড় করানো হয়নি। এক বছর আগে ও নিজে আমাকে বলেছিল, আমি ভাঙড়ে দাঁড়াতে চাই।’

    এ দিন ভাঙড়ের সভায় মঞ্চে উঠেই নাটকীয় ভঙ্গিতে জুতো খুলে হাঁটু গেড়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করেন অভিষেক। তারপরই তিনি বলেন, ‘ভাঙড়ের মাটিকে প্রণাম আমার। আমি ডায়মন্ড হারবার এবং ভাঙড়ের মধ্যে কোনও পার্থক্য দেখি না। আমরা ভাঙড়ে লড়াইয়ের রাজনীতি নয়, গড়ার রাজনীতি চাই। ক্যানিং পূর্বে তৃণমূল এক লক্ষাধিক ভোটে জিতবে, আর ভাঙড়ে তৃণমূলের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।’

    ক্যানিংয়ের আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলামকে তৃণমূলের ‘আবর্জনা’ বলে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘যাঁদেরকে তৃণমূল বহিষ্কার করে, আইএসএফ তাঁদেরকে প্রার্থী করে। বিজেপিও তাঁদের সম্পদ বলে মনে করে। ভাঙড়ের মানুষ এই আরাবুলের অত্যাচারে আইএসএফ করতে শুরু করেছিলেন। আইএসএফ কর্মীদেরকে খুন করেছে আরাবুল। আর সেই আরাবুল এখন আইএসএফের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।’ তাঁর কটাক্ষ, ‘অমিত শাহকে যে পুলিশ পাহারা দেয়, সেই পুলিশ নওশাদ এবং হুমায়ুনকেও পাহারা দেয়। আইএসএফ আর বিজেপির মধ্যে যে গোপন সমঝোতা আছে, এ সব দেখলেই বোঝা যায়।’

    এ ব্যাপারে আরাবুল ইসলাম বলেন, ‘অন্য দলের প্রার্থীদের কথা না ভেবে ভাঙড় ও ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল প্রার্থীরা কী করবেন, সেটা ভাবুন। উনি যত বড়ই সভা করুন না কেন, ভাঙড় ও ক্যানিং পূর্বে ওঁদের মুখ পুড়বে।’

  • Link to this news (এই সময়)