• মাথা তুলেছে ইমারত, অন্যত্র কারবারে 'দাদা'রা, রাজারহাট, নিউ টাউনে ভোটে উধাও বহুচর্চিত সিন্ডিকেট ইস্যু
    এই সময় | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • শ্যামগোপাল রায়

    একটা সময় ছিল যখন রাজারহাট-নিউ টাউনের হাওয়ায় উড়ত কেবল ইমারতি ব্যবসার ধুলো আর সিন্ডিকেটের হুঙ্কার। ভোট এলেই বারাসতের তৃণমূল সাংসদ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার আর রাজারহাট–নিউ টাউনের তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তর অনুগামী বলে দাবি করা 'দাদা'দের সক্রিয়তা আর সিন্ডিকেটের ছেলেদের দাপাদাপি ছিল দস্তুর। কোন জমিতে কার মাল সাপ্লাই হবে, কার আপত্তিতে কাজ বন্ধ হবে—এই আলোচনায় তপ্ত থাকত চায়ের দোকান থেকে রাজনৈতিক কার্যালয়। মাঝেমধ্যেই দু'পক্ষের ঝামেলায় উত্তপ্ত হতো নয়া উপনগরী।

    কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে সেই ছবিটা আমূল বদলে গিয়েছে। নিউ টাউন, রাজারহাট জুড়ে এখন আকাশচুম্বী আবাসন আর শপিং মলের ভিড়। তিলধারণের জায়গা নেই কোথাও। আর তাতেই যেন উবে গিয়েছে সিন্ডিকেটের 'ভোট ইস্যু'। সিন্ডিকেটের 'পাখিরা' নতুন বাসার খোঁজে অন্যত্র উড়ে যাওয়ায় এ বারের লড়াই অনেকটাই নাগরিক পরিষেবার ইস্যু–কেন্দ্রিক।

    স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া ১, ২ এমনকী থ্রি-এর বড় অংশে এখন ইমারতি কাজ কার্যত শেষ হয়ে আবাসিকদের দখলে। নতুন করে বড় কোনও আবাসন প্রকল্প গড়ে ওঠা বা সরকারি জমি অধিগ্রহণের সুযোগ নেই বললেই চলে। ফলে সিন্ডিকেটের 'ছেলেরা', যারা এতদিন ইমারতি দ্রব্যের কারবার আর জমি দখলের লড়াইয়ে মাঠ কাঁপাত, তারা এখন হয় অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছে, কিংবা এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছে হাড়োয়া বা ভাঙড়ের মতো 'উঠতি' এলাকায়।

    ভোটের ময়দানেও এর প্রভাব স্পষ্ট। কোনও দলের প্রচারেই সিন্ডিকেট নিয়ে কোনও কথা শোনা যাচ্ছে না। যাঁর বিরুদ্ধে একদা সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ তুলত বিরোধীরা, কাকলি–ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের সেই যুবনেতা আফতাবুদ্দিনের দাবি, 'এখন জমি নেই, তাই তথাকথিত সেই কাজও নেই। ফলে সিন্ডিকেট নিয়ে ভোট–বাজারে কোন আলােচনাও নেই। আমরা এখন আধুনিক পরিকাঠামো ও শান্তিতে বিশ্বাসী। সে কথাই প্রচারে তুলে ধরে মানুষের সমর্থন চাইছি।' যদিও এই যুক্তি মানতে নারাজ গেরুয়া শিবির। রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোড়িয়ার পাল্টা তোপ, 'সিন্ডিকেট শেষ হয়নি, শুধু রূপ বদলেছে। এখন আবাসন রক্ষণাবেক্ষণ বা অন্য পরিষেবার নামে তোলাবাজি চলছে। তবে এ বার মানুষ ভয়মুক্ত হয়েই ভোট দেবেন।' বাম–প্রার্থী শুভজিৎ দাশগুপ্ত মনে করিয়ে দিচ্ছেন পুরোনো দিনের কথা। তাঁর মতে, 'বাম জমানায় সমবায়ের মাধ্যমে যে কর্মসংস্থান হতো, তৃণমূল তাকে লুটে খাওয়ার কারবারে পরিণত করেছিল। নতুন জমি নেই বলে ওরা এখন পিছু হটেছে।'

    নয়া উপনগরীর অলিগলিতে ভোটে সিন্ডিকেটের স্লোগান না থাকাটা নিউ টাউনের আকাশছোঁয়া আবাসনের বাসিন্দাদের কাছে স্বস্তির। তাঁদের বক্তব্য, বাইক–বাহিনীর দাপট বা সিন্ডিকেটের রক্তচক্ষু এ বারের ভোটে নেই। ইমারতি কারবার কমে যাওয়ায় শব্দদূষণ আর ধুলোবালির দাপটও কমেছে। বদলে পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা আর যানজট মুক্তির চাহিদা নিয়ে ভোটের বাজার সরগরম।

  • Link to this news (এই সময়)