• মমতার নামে কত মামলা করেছেন মোদী? তোপ রাহুলের
    এই সময় | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়: রাজ্যে দ্বিতীয় দফায় ভোট প্রচারে এসে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, নরেন্দ্র মোদীর জমানায় ইডি কি কখনও তৃণমূলন‍েত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে? সিবিআই অথবা ইডি কি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা করেছে? লোকসভার বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, আরএসএস বা বিজেপির বিরুদ্ধে মমতা সোজাসুজি লড়াই করেন না। তাই কেন্দ্রের মোদী সরকার তৃণমূলনেত্রীর বিরুদ্ধে কোনও এজেন্সিকে দিয়ে মামলা রুজু করেনি। যদিও রাহুলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের যুক্তি, বিজেপিকে শুধুমাত্র তৃণমূলই কড়া লড়াইয়ের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে বলে ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স, এনআইএ–সহ কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি পশ্চিমবঙ্গে বেছে বেছে তাঁদের দলের নেতাদের টার্গেট করছে। এমনকী তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কেন্দ্রীয় এজেন্সি একাধিকবার নিশানা করেছে।

    বাংলায় প্রথম দফায় ভোট প্রচারে এসে রাহুল মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তর দিনাজপুর জেলায় তিনটি সভা করেছিলেন। শনিবার দ্বিতীয় দফায় প্রচারে এসে হুগলির শ্রীরামপুর, কলকাতায় শহিদ মিনার ও মেটিয়াবুরুজে জনসভা করেন কংগ্রেস সাংসদ। এই তিনটি সভা থেকেই রাহুল প্রশ্ন তুলেছেন, কেন কেন্দ্রীয় এজেন্সি এত বছরে একবারও মমতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি? শ্রীরামপুরের সভায় শনিবার তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কতগুলি কেস করেছেন নরেন্দ্র মোদী? ওঁকে কত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে? ইডি আমাকে পাঁচদিন মোট ৫৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সিবিআই, ইডি মমতাকে আক্রমণ করে না। এর কারণ হলো উনি বিজেপির বিরুদ্ধে সোজাসুজি লড়াই করেন না। নরেন্দ্র মোদী ২৪ ঘণ্টা কংগ্রেস, রাহুল গান্ধী, খাড়গেজি, প্রিয়াঙ্কার উপরে আত্রমণ করেন। মোদী শুধু ভোটের সময়ে মমতাকে আক্রমণ করেন। ভোট চলে গেলে উনি আর আক্রমণ করেন না।’

    মোদী জমানায় কেন্দ্রীয় এজেন্সি কেন মমতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি? রাহুল এই প্রশ্ন তোলায় পাল্টা কড়া জবাব দিয়েছে তৃণমূল। রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘রাহুল গান্ধী কি জানেন, তিনি যখন তাঁর পোষ্যের সঙ্গে খেলছিলেন এবং তাকে বিস্কুট খাওয়াচ্ছিলেন সেই সময়ে তৃণমূলের নেতৃত্বের পিছনে ইডি, সিবিআইকে লেলিয়ে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এ বারের নির্বাচনের সময়েও ইডি–সিবিআই তৃণমূলের প্রার্থীদের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বের যদি এতই যোগ্যতা থাকত, তা হলে মহারাষ্ট্র, বিহার, হরিয়ানা নির্বাচনে তাঁরা হারলেন কেন? মমতাই একমাত্র নেত্রী, যিনি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেন।’

    তৃণমূল পাল্টা রাহুলকে আক্রমণ করলেও লোকসভার বিরোধী দলনেতার দাবি, গেরুয়া শিবির তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে মোট ৩৬টি মামলা দায়ের করেছে। শ্রীরামপুরের সভায় রাহুল বলেন, ‘আমি জামিনে রয়েছি। আমার সরকারি ঘর এরা ছিনিয়ে নিয়েছিল। লোকসভার সদস্যপদও ছিনিয়ে নিয়েছিল। কখনও আমি ঝাড়খণ্ডে যাই, কখনও মহারাষ্ট্র, কখনও উত্তরপ্রদেশ, কখনও বিহারে— ১০–১৫ দিন অন্তর কোনও না কোনও মামলার কারণে যাই।’ যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের যুক্তি, বিজেপির বিরুদ্ধে মাটি কামড়ে লড়াই করার বদলে রাহুল গান্ধী প্রায়ই বিদেশে চলে যান। ভোটের সময়েও বিদেশে চলে যান কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি। তৃণমূল নেতৃতব্ কড়া জবাব দিলেও শহিদ মিনারের সভায় রাহুল বলেছেন, ‘কেন ওঁর (মমতা) বিরুদ্ধে ৩৮–৪০টা কেস হয়নি? কারণ ওঁরা (বিজেপি) জানেন, তৃণমূলের সঙ্গে আসল লড়াই নয়। যদি সত্যি লড়াই হতো, অনেক কেস হতো। উনি জামি‍নে থাকতেন। ৫৫–৭০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো।’ যদিও রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের পাল্টা বক্তব্য, ‘ইডি–সিবিআই–এনআইএ এ রাজ্যে অধিকাংশ তদন্ত করছে কলকাতা হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে নির্দেশে। তা হলে তো বলতে হয়, আদালতের উপরেও রাহুল গান্ধীর আস্থা নেই। আর কখন তৃণমূলের সঙ্গে ওঁদের গলাগলি, কখন আবার কুস্তি হয়, সেটা ওঁরাই ভালো বলতে পারবেন। বাংলার মানুষের এ নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই।’

  • Link to this news (এই সময়)