চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার
কাশবনের আড়ালে ভেসে আসছে রেলের 'কু ঝিক ঝিক'। প্রাণপণে এসে দিকে ছুটছে দুর্গা, অপু। সত্যজিৎ রায়ের 'পথের পাঁচালী' সিনেমার সেই দৃশ্য এখন বাস্তবে উধাও। বৈদ্যুতিক চালিত রেল ইঞ্জিনের দৌলতে রেলগাড়ি থাকলেও তার কু ঝিক ঝিক আওয়াজ আর নেই। কারণ সেই আওয়াজ হতো বাষ্পচালিত বা স্টিম ইঞ্জিনের দৌলতে। দু'জন চালকের মধ্যে একজন অনবরত তপ্ত আগুনে কয়লা দিতেন। কয়লার আগুনে ফুটন্ত জলের বাষ্পকে কাজে লাগিয়ে ট্রেনের ছুটত ইঞ্জিন। আর একজন চালক সামনে দাঁড়িয়ে সেই ইঞ্জিন চালাতেন। সে সবই এখন অতীত। ইতিহাসের পাতায় হেরিটেজ তকমা পেয়েছে সেই বাষ্পচালিত রেল ইঞ্জিন। রেলের ভাষায় লোকোমোটিভ। বর্তমান প্রজন্মকে তা দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ। রেল ঐতিহ্য সংরক্ষণে যা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন এখানকার রেলকর্তারা।
শতাব্দী প্রাচীন ৮০১-বি স্টিম ইঞ্জিনটি এক সময়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রাণভোমরা ছিল। কত ট্রেন যে টেনে নিয়ে গিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। সত্তরের দশকের পরে আর তা চলেনি। ১৯২৭-এ যুক্তরাজ্যের নর্থ ব্রিটিশ লোকোমোটিভ কোম্পানি লিমিটেড এই রেল ইঞ্জিনটি নির্মাণ করে। এতদিন সেই ইঞ্জিনটি উত্তর-পূর্ব রেলের নিউ বঙ্গাইগাঁও ওয়ার্কশপে রাখা ছিল। দীর্ঘদিন অচল থাকার পরে এটিকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঐতিহ্যের সংরক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে এক করে রেলের ইঞ্জিনিয়াররা দীর্ঘদিনের চেষ্টায় এটিকে পুনর্নিমাণ করেন। সেখানে রিয়েল স্টিম ইঞ্জিনের শব্দ, কৃত্রিম ধোঁয়া বের হওয়ার ব্যবস্থার সঙ্গে ডায়নামিক লাইটিং সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। সফলভাবে পুনরুজ্জীবিত করে অসমের নিউ বঙ্গাইগাঁও ওয়ার্কশপে সাধারণ মানুষের দেখার জন্য প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে। ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনের পরে এটি রেলপ্রেমী, পর্যটক এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি আকর্ষণীয় হবে বলে মনে করেন রেলকর্তারা।