• গোষ্ঠীকোন্দলের চাপা আতঙ্ক দুই ফুলে, ভোটের জমি চষছেন রামও
    এই সময় | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • এই সময়, খণ্ডঘোষ: প্রবল রোদেও প্রচারে খামতি রাখছেন না খণ্ডঘোষের শাসকদলের বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ। চষে ফেলছেন খণ্ডঘোষের সঙ্গে গলসি এলাকা। কারণ, তিনি জানেন ২০২১–এর নির্বাচনে তাঁর জয়ের অন্যতম কাণ্ডারি ব্লক সভাপতি অপার্থিব ইসলাম ওরফে ফাগুন নেই!

    খণ্ডঘোষে প্রার্থীর নাম ঘোষণার পরেই ফাগুনের ‘বিদ্রোহ’ ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে। ফ্লেক্স লাগিয়ে আবেদন করা হয়েছিল, নবীনকে যেন ভোট না–দেোয়া হয়। জেলা নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে উঠে গিয়েছিল সেই ফ্লেক্স, কিন্তু তাতে কি বিদ্রোহের আগুন নিভেছে?

    খণ্ডঘোষ বিধানসভা ব্লকের ১০টি ও গলসি–২ ব্লকের ৭টি পঞ্চায়েত নিয়ে তৈরি। পাঁচ বছর আগে এখান থেকেই নবীন জিতেছিলেন ২১ হাজার ভোটে। দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার পরে ছবিটা কি একই থাকবে? বাদুলিয়ার অফিসে বসে ফাগুনের মন্তব্য, ‘ভোটের বিষয়ে কোনও কথা বলব না। সাধারণ মানুষ যা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই ফলাফলই হবে।’ নির্বাচনী প্রচারে এসে এই কেন্দ্রে দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কোন্দল ভুলে দলের প্রতীকে ভোট দিতে আহ্বান করেছিলেন মানুষকে। তবে নির্বাচনে তার প্রতিফলন পড়বে কী!

    নবীন বলছেন, ‘বিগত দিনে কাজ করিনি, এমনটা কেউ বলতে পারবেন না। কোনও মানুষ আমার কাছে সাহায্য চেয়ে পাননি, তেমনও দেখাতে পারবেন না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের সামিল হয়েছে খণ্ডঘোষ ব্লকও। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মানুষ আশীর্বাদ করবেন।’

    ঘটনা হলো, হাল্কা করে হলেও গোষ্ঠীকোন্দলের আঁচ পড়েছে পদ্ম–শিবিরেও! বিজেপি প্রার্থী করেছে ইন্দাসের বাসিন্দা গৌতম ধাড়াকে, যা নিয়ে স্থানীয় বিজেপির কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। বেরুগ্রাম এলাকার বোঁয়াইচণ্ডীর বাসিন্দা সন্তোষ সাহার গলায় উষ্মার সুর, ‘খণ্ডঘোষ ব্লকে একজন প্রার্থীও পাওয়া গেল না! ইন্দাস থেকে প্রার্থী দিতে হলো? জিতলে কী ভাবে সহযোগিতা করবেন বিধায়ক!’ যদিও গৌতম দাবি করছেন, ‘আমি একেবারেই খেটে খাওয়া পরিবারের ছেলে। ইন্দাস আর খণ্ডঘোষের মধ্যে দূরত্ব সামান্য কয়েক কিলোমিটারের। জিতলে মানুষের সেবা করব কি না, সেটা তো সকলেই দেখতে পাবেন। তাঁরা আমাকে নির্বাচিত করবেন বলে বিশ্বাস রাখি।’ যোগ করেন, ‘প্রচারে একটি কথাই বলছি, আমায় নয়, বিজেপিকে ভোট দিন।’

    অনেক দিন পরে এই কেন্দ্রে প্রচারে পিছিয়ে নেই সিপিএম–ও। খেত মজুরি করা রামজীবন রায়কে প্রার্থী করে গরিব, প্রান্তিক মানুষের কাছে বাম–শিবির বার্তা দিয়েছে, তারা আছে মেহনতি মানুষের সঙ্গে। জমি চষার মতোই প্রচারে কোনও ফাঁক রাখছেন না রামজীবন। বলছিলেন, ‘বার্তা একটাই, বিজেপি-তৃণমূলের গোপন আঁতাত। এটা কিন্তু আজ মানুষ বুঝে গিয়েছেন। তাই সবাইকে বলছি, ভোট নষ্ট না–করে সিপিএমকে নির্বাচিত করুন। মানুষ কথা শুনছেন। লাল আবিরে ভাসবে খণ্ডঘোষ।’

  • Link to this news (এই সময়)