এই সময়, গলসি: জাতীয় সড়ক থেকে গলসি বাজারের দিকে গাড়িটা ঘুরে কিছুটা গিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। বাজারের গলির রাস্তা ধরে এগোবে না গাড়ি। সেখানকার রাস্তা দখল করে তৈরি হয়েছে অবৈধ দোকান। তারই মধ্যে এক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মধ্যে বসে ৃসিপিএম প্রার্থী মণিমালা দাস!
পঞ্চায়েতের প্রধান, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি ছিলেন। গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সভানেত্রী। এই কেন্দ্র থেকে জেতার ব্যাপারে মণিমালা খুব একটা আত্মবিশ্বাসী নন। বললেন, ‘আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। তুলে ধরছি বিগত ১৫ বছরের অনুন্নয়নের কথা। তবে আমার বিশ্বাস, মানুষ এ বার পরিবর্তনের দিকেই ঝুঁকবেন। জিততেও পারি।’
কিন্তু সাধারণ মানুষ কী বলছেন? সরু গলির বাজারে থাকা এক টেলারিং দোকানের মালিক শেখ নুরউদ্দিনের মন্তব্য, ‘ কী আর হবে! এত মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরে বিজেপিকে ভোট দেবেন কে? দেখা যাক, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ঠিক করব, কাকে ভোট দেবো।’ আর এক ব্যবসায়ী সুজন বিশ্বাসের মন্তব্য, ‘সিপিএম, তৃণমূলকে তো দেখলাম। একবার বিজেপিকেও দেখি। তবে আমাদের লাভ কিছু হবে বলে মনে হয় না।’
গ্রামের অনেক রাস্তায় কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত গতিতে চলছে কাজ। রাস্তার দু’ধারে ধানের খেতে পাকা ধান। জাতীয় সড়কের পাশেই দু’তিনটি রাইস মিলের চিমনি থেকে বেরোচ্ছে কালো ধোঁয়া। এই রাইস মিলগুলি থেকে বেরিয়ে আসা বিষাক্ত রাসায়নিক মিশছে জলে, নষ্ট হচ্ছে জমি। বার বার আন্দোলন করেও চাষিরা জমি বাঁচাতে পারেননি। টাকার জোরে মিলের মালিকরা সব ম্যানেজ করে ফেলেছেন।
পারাজের এক কৃষক শেখ মইনুদ্দিন বলছিলেন, ‘রাইস মিলের জলে আমাদের জমি শেষ হয়ে যাচ্ছে। বার বার বিধায়ককে বলেছি, কিছুই হয়নি। শুনেছি, সব টাকায় ম্যানেজ হয়েছে। এ বার তো ভোট দেওয়ার আগে একটু ভাবতেই হবে। দেখি কী করি।’ বেশ কিছুটা এগিয়ে গলসি–১ ব্লকের গো-মহল এলাকায়। স্থানীয় এক মন্দিরে তখন পুজো দিতে ব্যস্ত বিজেপির প্রার্থী রাজু পাত্র। চাঁদি ফাটা গরমে দলীয় কর্মী–সমর্থকদের নিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ভোটের প্রশ্ন উঠতেই রাজুর সাফ কথা, ‘এ বার আমি জিতব। কোনও ধরনের হামলা, অশান্তির চেষ্টা হলে এমন দাওয়াই দেবো যে আর আওয়াজ বেরোবে না। আমি ভূমিপুত্র। বহিরাগতকে এ বার পুরো পরিষ্কার করে দেবেন এলাকার মানুষ।’
রাজুর কথাবার্তাতেই স্পষ্ট, পেশাগত ভাষাকেও মিশিয়ে নিয়েছেন রাজনীতির সঙ্গে। রাজু পেশায় গ্যারাজ মিস্ত্রী। মোটরবাইক সারানোর কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরেই। গলসি–১ ব্লকের ন’টি পঞ্চায়েত, দুই ব্লকের দু’টি এবং কাঁকসার চারটি, মোট ১৫টি পঞ্চায়েতের ২৯৭টি বুথ নিয়ে গলসি বিধানসভা। মুলত কৃষিজীবী মানুষের বাস বেশি এখানে। তৃণমূলের প্রার্থী অলোক মাঝি বলছেন, ‘আমাকে যাঁরা বহিরাগত বলছেন, তাঁদের প্রশ্ন করুন বাংলায় যারা আসছে আর মিথ্যা ভাষণ দিচ্ছে, তারা তা হলে কী? আমি এই বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে কাজ করে গিয়েছি। এমন একজনকেও দেখান, যিনি আমাকে ডেকে পাননি। আমার নামই হয়েছিলো খিচুড়ি খাওয়া বিধায়ক।’
আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলে গেলেন, ‘মানুষ যে ভাবে সাড়া দিয়েছেন, এ বার অন্তত ২০ হাজার ভোটে জিতব।’ কংগ্রেস এখানে দেবাশিস বিশ্বাসকে প্রার্থী করলেও তাঁকে নিয়ে কয়েকটি পোস্টার ছাড়া আর কিছুই নেই।
সবমিলিয়ে, গলসিতে এ বার লড়াই খিচুড়ি খাওয়া বিধায়ক বনাম ভূমিপুত্রের!