এই সময়, উস্তি: বাঙালি বিয়েবাড়ি মানেই সানাইয়ের সুর, সাজগোজ, হইচই আর খাওয়াদাওয়া। কিন্তু সেই চেনা ছবির বাইরে মগরাহাট পশ্চিমের এক বিয়েবাড়িতে তৈরি হলো অন্য এক চিত্রনাট্য!
দক্ষিণ ২৪ পরগনার উত্তম কুসুম এলাকায় ফাস্টফুডের ব্যবসায়ী হেকমতুল্লাহ লস্করের বিয়ে উপলক্ষে চলছিল জমজমাট অনুষ্ঠান। শুভ পরিণয়ের সাক্ষী হতে ভিড় জমিয়েছিলেন আত্মীয়স্বজনরা। ঠিক সেই সময় সেখানে হাজির হলেন মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সামিম আহমেদ। তাঁকে দেখে উঠে দাঁড়ালেন বর। হাতে মিষ্টির প্লেট নিয়ে এগিয়ে এলেন অতিথিকে অভ্যর্থনা জানাতে। বরের আব্দার মেনে মিষ্টিমুখ করলেন সামিম। ভোটের চূড়ান্ত ব্যস্ততার মাঝেও বিয়ের আসরে তৃণমূল প্রার্থীকে দেখে তখন হতবাক অন্য অতিথিরা।
সামিম জানাচ্ছেন, সারা বছর এলাকার মানুষের বিপদে আপদে পাশে থাকি। ভোটের প্রচারে ব্যস্ত থাকলেও তাই বিয়ের নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে চলে এসেছেন। তাঁর কথায়, ‘মানুষ তো জীবনে একবারই বিয়ে করে। কিন্তু ভোট পাঁচ বছর অন্তর আসবে। মানুষের আবেগকে সম্মান জানাতেই নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে চলে এসেছি।’ আর তারই জেরে খনিকের জন্য হলেও বদলে গেল বিয়েবাড়ির পরিবেশ।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মাইক নিয়ে ভোটের প্রচার, মিটিং–মিছিল করা ছাড়াও সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মিশে যাওয়াটাও জনসংযোগেরই অঙ্গ। এটা অনেক বেশি কার্যকর। তাই ভোটের সময় প্রার্থীরা বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানকেও জনসংযোগের কাজে ব্যবহার করছেন।
কয়েক দিন আগে ওই উত্তর কুসুম অঞ্চলেই রাস্তায় ঘুরে ঘুরে প্রচার করছিলেন সামিম। তখনই তাঁর সামনে চলে আসে এক ছোট্ট শিশু। সঙ্গে সঙ্গে সামিম শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় চারপাশের পরিবেশ। থমকে যায় স্লোগান। প্রচার বন্ধ রেখে শিশুটির সঙ্গে বেশ খানিক্ষণ খুনসুটি করতে দেখা যায় মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থীকে।