এই সময়: দলের প্রার্থীপদ ঘোষণার আগে থেকেই টেনশন। তাঁর ভাগ্যে কি শিকে ছিঁড়বে! আবার প্রার্থী হওয়ার পরে কী ভাবে প্রচার করবেন, অনুগামীদের কাকে তাঁর হয়ে ভোটের কাজ সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া যায় তার চিন্তা। সবচেয়ে বড় টেনশন, দল তাঁর উপরে যে ভরসা করেছে, ভোটে জিতে সেই ভরসার যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে পারবেন তো! ভোট শেষ হওয়ার পরে আপাতত রেজাল্ট বের না হওয়া পর্যন্ত সেই চিন্তা থাকলেও বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের অনেকেই প্রচণ্ড গরমে প্রচারের ধকল সামলানোর পরে কিঞ্চিৎ রিল্যাক্স মুডে।
চন্দ্রকোণা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সূর্যকান্ত দোলইয়ের এখন রোজনামচা, সকালের দিকে দলীয় নেতাদের সঙ্গে ঘাটাল কলেজে স্ট্রং রুমে কাটিয়ে দুপুরে বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। তৃণমূল প্রার্থীর কথায়, ‘ভোটের ধকল তো রয়েইছে। কিন্তু তাই বলে তো নিশ্চিন্তে বসে থাকতে পারি না। দিনের কিছুটা সময় বাড়িতে আর কিছুটা সময় স্ট্রং রুমে দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করে সময় কাটাচ্ছি। ওরা যদিও বলছে আসার দরকার নেই, বাড়িতে বিশ্রাম নাও। কিন্তু মন চাইছে না।’ বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত দোলইও বাড়িতে কিছুটা সময় কাটিয়ে বিকালে দলীয় কার্যালয়ে সময় কাটাচ্ছেন। সেখানে চলছে বুথ ভিত্তিক পর্যালোচনা। ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী সর্দার ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদেও রয়েছেন। আবার সাংসারও সামলাতে হয়। এখন বাড়িতে সময় কাটানোর পাশাপাশি স্ট্রং রুমে নজরদারি ঠিক আছে কি না তার খোঁজও নিচ্ছেন।
কেশপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা ভোটের পরের ধকল সামলে আপাতত কলকাতায় বিশ্রামে রয়েছেন। শিউলি জানান, এক-দু’দিন বিশ্রাম নিয়ে ফের মেদিনীপুরে ফিরবেন। গড়বেতা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী প্রদীপ লোধা ভোটের পরে ব্যস্ত কর্মীদের সঙ্গে ভোটের ফল নিয়ে আলোচনায়। সিপিএম প্রার্থী তপন ঘোষের সময় কাটছে কর্মীদের সঙ্গে দলীয় কার্যালয়ে। মেদিনীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক ও সাংগঠনিক কাজেই ব্যস্ত।
একটানা দৌড়ঝাঁপ শেষে ক্লান্তি তো ছিলই, সঙ্গে গলার অবস্থাও তথৈবচ। শনিবার মেদিনীপুরে স্ট্রং রুম পরিদর্শনে এসেছিলেন দাঁতন বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী মানিক মাইতি থেকে নারায়ণগড়ের তৃণমূল প্রার্থী প্রতিভারানি মাইতি। দু’জনেরই বক্তব্য, ‘টানা দৌড়ঝাঁপ গিয়েছে। এখন সামান্য বিশ্রাম নিচ্ছি। তার মাঝেই স্ট্রং রুম পরিদর্শন করে নিলাম। ভোটের হিসেব এখনও অবশ্য সম্পূর্ণ করতে পারিনি। ধীরে ধীরে সেই হিসেব করব।’ কেশিয়াড়ির বিজেপি প্রার্থী ভদ্র হেমব্রমের কথায়, ‘বিশ্রাম বলতে, একটু দেরিতে ঘুম থেকে উঠছি। আর বাইরে বেশি বেরোইনি। এখন খরচের হিসেবের পাশাপাশি বুথ ধরে হিসেব কষছি।’ নারায়ণগড়ের বিজেপি প্রার্থী রমাপ্রসাদ গিরি বলেন, ‘কর্মীদের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলছি। অনেকদিন পর মেদিনীপুরের বাড়িতে ফিরে একটু বিশ্রাম নেব।’
বিনপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বিদায়ী বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা অবশ্য নিজের জেলায় ভোট শেষ হতেই দ্বিতীয় দফার ভোটে দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে নেমে পড়েছেন। বিজেপি প্রার্থী প্রণত টুডু বলেন, ‘বাড়িতে বসেই সারাদিন ধরে বিভিন্ন বুথের কর্মীদের ফোন করে খোঁজখবর নিচ্ছি। কোনও সমস্যা থাকলে সমাধানের চেষ্টাও করছি।’ ঝাড়গ্রাম বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী মঙ্গল সরেন অবশ্য পার্টি অফিসে কর্মীদের সঙ্গে দিব্যি আড্ডা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ভোট মিটে গিয়েছে বলে তো কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ, তা কিন্তু নয়। তাই ওঁদের সঙ্গে নানা আলোচনা করে সময় কাটাচ্ছি।’
পেশায় শিক্ষক এগরা বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী তরুণ মাইতি কাঁথি কো–অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যানও। তাই ভোট মিটলেও বিশ্রাম নেওয়ার সময় নেই তাঁর। বলেন, ‘ক’দিন স্কুল ছুটি। সোমবার থেকে স্কুলে যাব। ব্যাঙ্কেও যেতে হবে। বিশ্রাম নেওয়ার সময় নেই। তবে ভোটের পরে অনেকটা হালকা লাগছে। কিন্তু ফলাফল নিয়ে মানসিক একটা চাপ তো রয়েইছে।’ বিজেপি প্রার্থী দিব্যেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘রাজনৈতিক লোকজনের বিশ্রাম বলে কিছু হয় না। তবে প্রচারের হুড়োহুড়ি না থাকলেও ৪ তারিখের আগে হোমওয়ার্ক করতে হচ্ছে।’