৪২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি অপরাজিত। এ বারের বিধানসভা ভোটেও কি সেই ধারা বজায় রাখতে পারবেন রাজ্যের মন্ত্রী রথীন ঘোষ? এসআইআর পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক ভাবে বিজেপির আড়েবহরে বৃদ্ধি নজরে রেখে আপাতত এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে মধ্যমগ্রাম।
উত্তর ২৪ পরগনার এই বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূলের সুরক্ষিত আসন বলেই পরিচিত রাজ্য-রাজনীতিতে। গত বারের ভোটে মধ্যমগ্রামে রথীন ৪৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। জিতেছিলেন প্রায় ৪৮ হাজার ভোটে। অন্য দিকে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিজেপি প্রার্থী রাজশ্রী রাজবংশী পেয়েছিলেন ২৮ শতাংশ ভোট। আর আইএসএফ প্রার্থী বিশ্বজিৎ মাইতির ঝুলিতে গিয়েছিল প্রায় ২০ শতাংশ ভোট। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করেও দেখা গিয়েছে, এই কেন্দ্রে এগিয়েছিল তৃণমূল। তবে বিজেপির ভোট বেড়েছে। ২৮ শতাংশ থেকে পৌঁছে গিয়েছিল ৩৩.৬ শতাংশে। অন্য দিকে, তৃণমূলের ভোট কমে ৪৭ শতাংশে নেমেছিল।
বিধানসভা ভোটে মধ্যমগ্রামে বিজেপি প্রার্থী করেছে অনিন্দ্য (রাজু) বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর বামফ্রন্টের সমর্থনে এই আসনে লড়ছেন আইএসএফ-এর প্রিয়াঙ্কা বর্মন। বিজেপির দাবি, মধ্যমগ্রামে তৃণমূলের ভোট ধারাবাহিক ভাবে কমেছে। অন্য দিকে, বিজেপির সমর্থন বেড়েছে। এসআইআর-এর পর এই বিধানসভা কেন্দ্রের পরিস্থিতি বদলেছে। তা ছাড়া আরজি কর কাণ্ডের পরে শহরাঞ্চলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্তর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পুরনিয়োগ দুর্নীতিতেও রথীনের নাম জড়িয়েছে। এ সবেরই সুবিধা বিজেপি পাবে। প্রসঙ্গত, দিন দুয়েক আগেই তৃণমূলের দুই মন্ত্রী সুজিত বসু এবং রথীনকে তলব করেছিল ইডি।
বিজেপি প্রার্থী রাজু বলেন, ‘মধ্যমগ্রামে আমি জিতছি। আমি পুরোপুরি নিশ্চিত।’ প্রিয়াঙ্কারও বক্তব্য, ‘আমি আশাবাদী, জিতব।’ মধ্যমগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে অনন্ত রায়কে। হাতশিবিরও তাঁর জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত বলেই দাবি করেছে।
যদিও তৃণমূলের বক্তব্য, গত লোকসভা ভোটের ফলাফল দিয়ে কিছুই বিচার করা যায় না। কারণ সেটা কেন্দ্রের ভোট। তাতে রথীন সরাসরি প্রার্থী ছিলেন না। তা সত্ত্বেও গতবারের তুলনায় মাত্র ২ শতাংশ ভোট কমেছিল তৃণমূলের। এ ছাড়া রথীনের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা তো রয়েইছে। মধ্যমগ্রামে দলের সংগঠন এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কও অটুট রয়েছে। অন্যান্য পুরএলাকায় শাসকের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ দেখা গিয়েছে সাম্প্রতিক কালে, তেমনটা মধ্যমগ্রামে দেখা যায়নি। ফলে বিজেপি যে দাবি করছে, তার কোনও ভিত্তিই নেই। শাসকদলের দাবি, এ বার গতবারের থেকেও বেশি ভোট পাবে তৃণমূল। এসআইআর-এ মানুষকে যে ভাবে হেনস্থা করা হয়েছে, তার প্রভাবও পড়বে ভোটের বাক্সে। এ বার বিজেপির ভোট অনেকটাই কমবে।
রথীন বলেন, ‘আমার জেতা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। বিপুল ভোটে জিতব। শুধু আমি নয়, তৃণমূল এ বার ২২০-র বেশি আসনে জিতবে এই বিধানসভা ভোটে।’