গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকার একটি আবাসনে গৃহবধূর রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য। অভিযোগের তির স্বামীর বিরুদ্ধে। মৃতের নাম এনাক্ষী দাস। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায়। অভিযোগ, অসুস্থ সন্তানকে পাশের ঘরে রেখে স্ত্রীকে খুন করে চম্পট দিয়েছেন স্বামী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তারা দেহ উদ্ধার করে সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন এনাক্ষীকে।
সূত্রের খবর, রবিবার সকালে পরিচারিকা ফ্ল্যাটে এসে বার বার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পাননি। এমনকী বহুবার এনাক্ষীর নম্বরে ফোন করেও কোনও উত্তর পাননি তিনি। পরিচারিকা এনাক্ষীর প্রতিবেশীর কাছ থেকে চাবি নিয়ে দরজা খুলতে যান। কিন্তু দরজায় হাত দিতেই তা খুলে যায়। এর পরে পরিচারিকা ভিতরে ঢুকে দেখেন, একটি ঘরে এনাক্ষীর অসুস্থ ছেলে ঘুমিয়ে রয়েছে। অন্য আর একটি ঘরে বিছানার উপর এনাক্ষীর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। সেই সময়ে বাড়িতে কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি এনাক্ষীর স্বামী সৌমিক দাসের।
পরিচারিকার চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁরাই খবর দেন পুলিশে। পুলিশ এসে এনাক্ষীর দেহ উদ্ধার করে। ইতিমধ্যেই এনাক্ষীর দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামী সৌমিক দাস পেশায় এক নামকরা বেসরকারি কলেজের অধ্যাপক। গত চার বছর ধরে ওই আবাসনের দ্বিতীয় তলায় স্ত্রী এনাক্ষী ও ৮ বছরের ছেলেকে নিয়ে থাকতেন সৌমিক। পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে ওই পরিবারের মেলামেশা ছিল না খুব একটা।
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সঙ্গে অভিযুক্তের খোঁজেও তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পারিবারিক বিবাদ নাকি অন্য কোনও কারণ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।