• পর পর দাঁড়িয়ে সাঁজোয়া গাড়ি, দ্বিতীয় দফা ‘পিসফুল’ রাখতে কামান দাগা শুরু, দেখুন ভিডিয়ো
    এই সময় | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • প্রথম দফার ভোটে ভূরি ভূরি প্রশংসা কুড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। রক্তপাতহীন, হিংসাহীন, ছাপ্পার অভিযোগহীন ভোট করিয়েছে বঙ্গে। অন্তত শাসক থেকে বিরোধী দলের একটা অংশ এ কথা মানছে। দ্বিতীয় দফায় আরও বড় পরীক্ষা। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২ আসনে ভোট। বেশির ভাগ আসনই ‘হাইভোল্টেজ’। কমিশনও যে এ বার আরও কষে কোমর বেঁধেছে, তা বোঝাচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে শনিবার টহলে নেমেছিলেন ডিজি CRPF জিপি সিং নিজে। রবিবারই এক্স হ্যান্ডলে সাঁজোয়া-সমারোহ পোস্ট করলেন তিনি। সঙ্গে লিখলেন, ‘আমাদের শক্তি, দুষ্কৃতীদের যম।’

    দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে বাংলায় নিরাপত্তা বলয় আরও শক্ত করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে কড়া নজরদারি চালাতে এ বার সিআরপিএফ নামাচ্ছে তাদের বিশেষ সাঁজোয়া যান ‘বিস্ট’। ভোটের আগে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ঠান্ডা রাখতে এবং বাহিনীর দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করতেই এই অত্যাধুনিক যান ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। CRPF-এর ডিজি এই সাঁজোয়া গাড়ির ভিডিয়ো সামনে এনেছেন। তা দেখে অনেকেই বলছেন, এ একেবারে কামান দাগার সামিল। এই ধরনের গাড়ি সাধারণত কাশ্মীর বা মাওবাদী অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় দেখে সকলে অভ্যস্ত।

    সিআরপিএফের এই ভারী সাঁজোয়া যান সাধারণ টহলদারি গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি সুরক্ষিত। বিস্ফোরক প্রতিরোধের জন্য সব সময় তৈরি এই যান। দুর্গম এলাকায় চলাচলের ক্ষমতা এবং দ্রুত মোতায়েনের সুবিধা থাকায় অশান্তিপ্রবণ এলাকায় এটি বিশেষ ভাবে কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে। বাহিনী সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফার ভোটে যে সব বুথ ও এলাকা স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত হয়েছে, সেখানে ‘এরিয়া ডমিনেশন’ অভিযান চালাতে ব্যবহার করা হবে ‘বিস্ট’।

    নির্বাচন কমিশন আগেই স্পষ্ট জানিয়েছিল, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সেই মতো কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে একাধিক জেলায়। বুথের আশপাশে নিয়মিত রুট মার্চ, নাকা চেকিং, সন্দেহভাজনদের তল্লাশি এবং রাতভর টহলের পাশাপাশি এ বার নজর কেড়েছে এই সাঁজোয়া যান।

    প্রশাসনিক মহলের মতে, অতীতে ভোটকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে একাধিকবার। তাই এ বার কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন। বিশেষ করে দ্বিতীয় দফায় যে সব কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।

    রাজনৈতিক মহলেও ‘বিস্ট’ মোতায়েন নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীদের একাংশের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই শক্তি-প্রদর্শন ভোটারদের আস্থা বাড়াবে। শাসকদল অবশ্য মানছে, ভোটে এই ব্যবস্থা রাখাই হয়। তবে সাঁজোয়া গাড়ি নামিয়ে দেওয়া নিয়ে আগেই তৃণমূল বলেছে, এখানে গণতন্ত্রের উৎসব হচ্ছে, যুদ্ধ নয়।

    সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বাংলার মাটিতে নিরাপত্তার ছবিটা এ বার অনেকটাই অন্য রকম। রাস্তায় রাস্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল, স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি, আর তার মাঝেই নজর কাড়ছে CRPF-এর বিশেষ সাঁজোয়া যান ‘বিস্ট’। ভোটের দিন এই প্রস্তুতি কি কাজে লাগবে? নাকি প্রথম দফার মতোই ভোট হবে শান্তিপূর্ণ? সেদিকেই নজর সব মহলের।

  • Link to this news (এই সময়)