Rahul Gandhi On West Bengal Violence: বাংলায় ভোট মিটলেও থামছে না রক্তক্ষয়। আসানসোলে কংগ্রেস কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এবার সরাসরি সরব হলেন রাহুল গান্ধী। রবিবার এই ঘটনার কড়া নিন্দা করে রাহুল স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলাজুড়ে এখন গণতন্ত্র নয়, চলছে তৃণমূলের ‘সন্ত্রাসরাজ’। হিংসার রাজনীতির কাছে কংগ্রেস যে মাথা নত করবে না, সেই হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি।
কংগ্রেসের দাবি, আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতণ্ডির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন দলীয় কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগ, ভোট-পরবর্তী হিংসার বলি হতে হয়েছে তাঁকে। অভিযোগের তির সরাসরি শাসকদল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে। অভিযোগ অনুযায়ী, দেবদীপের ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় শোকাতুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “তৃণমূলের গুণ্ডাদের হাতে দেবদীপের এই খুন অত্যন্ত নিন্দনীয়। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রইল।”
রাহুলের নিশানায় তৃণমূল
বাংলার বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এদিন রীতিমতো আক্রমণাত্মক ছিলেন রাহুল। তাঁর কথায়, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে ভয় দেখানো, আক্রমণ করা এবং চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়াই এখন তৃণমূলের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাহুল মনে করিয়ে দেন, কংগ্রেস কখনও হিংসার পথে হাঁটেনি। তিনি বলেন, “আমরা কর্মী হারিয়েছি, কিন্তু সর্বদা অহিংসা ও সংবিধানের পথ বেছে নিয়েছি। ভারতের অহিংস ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত করা এই নোংরা রাজনীতির কাছে আমরা হার মানব না।”
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
শুধু রাহুল নন, প্রদেশ কংগ্রেসের তরফেও রাজ্য প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ পরেও পুলিশ এফআইআর (FIR) দায়ের করতে গড়িমসি করছিল, যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। আসানসোলের এই ঘটনা বাংলায় বিরোধীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কংগ্রেসের দাবি স্পষ্ট, দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে এবং মৃত কর্মীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে। লোকসভা ভোটের আবহে আসানসোলের এই রাজনৈতিক হত্যা যে জাতীয় স্তরেও আলোড়ন ফেলে দিয়েছে, রাহুলের টুইটেই তা পরিষ্কার। এখন দেখার, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়।