ভোটবঙ্গের উত্তাপ এখন মধ্যগগনে। প্রথম দফা ভোট মিটতে না মিটতেই দ্বিতীয় দফার জন্য কড়া হাতে প্রস্তুত কমিশন। এই দফায় ভোটের দায়িত্বে মোতায়েন ২ হাজার ৩২১ কোম্পানি বাহিনী। যা প্রথম দফার চেয়েও সংখ্যা বেশি। শুধু তাই নয়, এবার ভোটে গ্রাউন্ড জিরোয় নামছেন খোদ সিআরপিএফের ডিজি। জিরো টলারেন্স নীতিতে ভর করেই এবার পাখির চোখ দ্বিতীয় দফার ১৪২ আসন।
মাত্র ৩ দিন পর ভোটের লাস্ট পেপার বাংলায়। কমিশনের টার্গেট ‘১০০ শতাংশ অশান্তিমুক্ত ভোট’। সন্ত্রাসের ‘ত্রাস’ হয়ে মাঠে প্রস্তুত বিশাল বাহিনীও। এবার ভোটবঙ্গে ময়দানে সরেজমিনে নামছেন সিআরপিএফের ডিজি জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিং। ভোটবঙ্গে ভয় দমনই যেন আসল লক্ষ্য। এক্স হ্যান্ডেলে সাঁজোয়া গাড়ির ভিডিও পোস্ট করেন ডিজি। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সারি সারি সাঁজোয়া গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। বাংলার বিধানসভা ভোটের পরিস্থিতি সামাল দিতেই বাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ি মোতায়েন বলে ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঠিক যেন যুদ্ধ পরিস্থিতি! ভোট আবহে কলকাতা থেকে জেলার পথে দাপিয়ে বেড়িয়েছে বাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ি। হিংসামুক্ত ভোট করাতে বাহিনী ‘সামরিক’ সজ্জায় কার্যত বুক কাঁপছে মানুষের। ভয় কাটাতে গিয়ে উলটে হিতে বিপরীত হচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। বাহিনীর ‘অতি-তৎপরতা’ দেখে মানুষ ভেবে বসছেন, ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধ এই বুঝি পৌঁছে গেল দুয়ারে! কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন সরকার বিজেপি এবার বাংলা জুড়ে প্রচার চালাচ্ছে ‘ভয় আউট ভরসা ইন’ স্লোগানে। তবে সিআরপিএফের এই ‘রণসজ্জা’ যেন ভোটবঙ্গে বিজেপির স্লোগানের উলটপুরাণ। কমিশনের নির্দেশের পরেই ভোটবঙ্গে সাঁজোয়া গাড়ি প্রস্তুত রাখার আগাম বার্তাও দিলেন সিআরপিএফ ডিজি।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার আগে দিনরাত অ্যাকশনে নেমে পড়েছে কমিশন। এবার শুধু বুথে বুথে নয়, বুথের আসা-যাওয়ার রাস্তাতেও ভোটারদের সিসি ক্যামেরার নজরে থাকবেন। কড়া হাতে সামাল দিতে রণকৌশল সাজাতে প্রস্তুত কমিশনের আধিকারিকরা। কলকাতা থেকে জেলায় চলছে সিইও-র টহলদারি। দিল্লির দপ্তরের নজরদারিতে দফায় দফায় চলছে বৈঠক। আজ কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে কলকাতার পুলিশ কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারদের নিয়ে বৈঠক কমিশনের।