রাজ্যে দ্বিতীয় অর্থাৎ শেষ দফার নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে কোমর বেঁধে নামল নির্বাচন কমিশন। ভোটের প্রস্তুতি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আজ কাকদ্বীপ সফরে এলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল। তিনি ফের একবার স্পষ্ট করে দেন, ভোটদানে কোনওরকম বাধাদান, অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।
রবিবার কাকদ্বীপ মহকুমাশাসকের অফিসে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টদের সঙ্গেও বিশেষ আলোচনা করেন তিনি। সূত্রের খবর, নির্বাচনের সময় যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কমিশন যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, তা জানাতেই আজ এই বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে মনোজ কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক, সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার-সহ নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। সব মিলিয়ে, শেষ দফার মহাযুদ্ধের আগে কাকদ্বীপের প্রশাসনিক তৎপরতা একেবারেই তুঙ্গে।
এদিন বৈঠকের পর মনোজ আগরওয়াল বলেন, “এখানকার পরিস্থিতি সন্তোষজনক। সকলকে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়েছে। ভোটদানে কোনওরকম বাধাদান, অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। মানুষকে ভোটদানে উৎসাহিত করতে হবে। এখানে ৯০ শতাংশের বেশি যাতে ভোটদান হয় তার জন্য সবাই এগিয়ে আসুন। সুষ্ঠু ভোটদানে বাধা দেওয়া হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। প্রত্যেক বুথে সিসিটিভি, লাইভ ফিড আছে। সেই লাইভ ফিড থেকে আমরা ১০ মিনিট আগের ভিস্যুয়ালও দেখতে পারব। বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে ভোটার কার্ড ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেবে না কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাইক নিয়ে মাতব্বরি বরদাস্ত করা হবে না। কোনও বুথ নজরদারির বাইরে থাকবে না।”
এদিন পূর্ব বর্ধমান জেলায়ও পরিদর্শনে যান মনোজ আগরওয়াল। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, “প্রথম দফার ভোটদানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটদানের প্রতিযোগিতা হবে। আরও বেশি ভোটদান হবে। এটা এলাকার মানুষই বলছেন।”
উল্লেখ্য, রবিবার পুলিশ ও বাহিনীকে নিয়ে ধনধান্য অডিটোরিয়ামে সম্পন্ন হয় কমিশনের ‘কো-অর্ডিনেশন’ বৈঠক। কমিশন জানায়, অশান্তি এড়াতে এবার প্রতি কেন্দ্রের অলিগলিতে ঘুরবে বাহিনী। ১৬০ বাইকে ২ জন করে জওয়ান ঘুরবেন পাড়ায় পাড়ায়। প্রথম দফার নির্বাচনে বুথের বাইরে ও ভিতরে সিসিটিভি লাগানো হয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে শুধুমাত্র বুথে নয়, বুথে আসা-যাওয়ার রাস্তাতেও সিসিটিভি লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।