• ভারতীয় হয়েও কাঁটাতারের যন্ত্রণা, সীমান্তের ওপারে সব কিছু! দেশে ফেরার আশায় ভোট দেবে চর মেঘনা
    প্রতিদিন | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ভোট আসে ভোট যায়, মেটে না কাঁটাতারের যন্ত্রণা! চর্চায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের করিমপুর বিধানসভার চর মেঘনা গ্রাম। গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, এবার বিধানসভা ভোট বৈতরণী পার হলে কি মিটবে কাঁটাতারের বেড়ার যন্ত্রণা? প্রশ্ন অনেক, সমাধান একটাই, গ্রামটিকে কাঁটাতারের বাইরে নিয়ে আসা। গ্রামের শুভেন্দু মণ্ডলের কথায়, “অখণ্ড ভারতবর্ষের অনেক আগে থেকেই এখানে মানুষ বসবাস করে আসছেন। ঘটনাক্রমে এই গ্রামের মানুষেরা ভারতীয় হলেও ভূখণ্ড বাংলাদেশ হয়ে যায়। এরপর মোটামুটি ১৯৯৬ সাল নাগাদ গ্রামটি ভিতরে রেখে ভারতের দিকে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়। সেই থেকেই কাঁটাতারের ওপারেই জেলখানায় বন্দির মতো বসবাস করতে হয় গ্রামের মানুষদের।

    তাছাড়াও দীর্ঘদিন অ্যাডভার্স পজিশনে থেকে ভারতের নাগরিকেরা এখানে বসবাস করে আসছেন। ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ছিটমহল বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যদিও অ্যাডভার্স পজিশনে থাকার কারণে চর মেঘনা গ্রামের নাম সেই তালিকায় ছিল না। প্রধানমন্ত্রী, বিদেশমন্ত্রী-সহ একাধিক দপ্তরে ভারতভুক্তির জন্য এলাকার মানুষ আবেদন দিতে থাকেন। শেষমেষ গ্রামটি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। গ্রামবাসীরা জানান, বর্তমানে ওই গ্রামটিতে প্রায় ১৪০ ঘর মানুষের বসবাস, মোটামুটি প্রায় ১২০০ লোক ওখানে বসবাস করেন। সব মিলিয়ে মোট ৫৮৩ একর জমি রয়েছে। অবিভক্ত ভারতবর্ষ থেকে আমাদের গ্রামটি। কাঁটাতারের বেড়ার সমস্যা কবে মিটবে? সেই দিকে তাকিয়ে গ্রামের মানুষ। 

    গ্রামের রাজু মাহাতো বলছেন, “আমাদের কাঁটাতারের যন্ত্রণা তো আছেই, তাছাড়াও গ্রামের একমাত্র রাস্তা বেহাল, পানীয় জলের সমস্যাও মেটেনি। তাহলে আমরা কী পেলাম। এই সমস্যা আদতেই মিটবে কিনা তা আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ভোটের মধ্যে অনেকেই আসেন, শুকনো প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু ভোট চলে গেলে কেউই মনে রাখে না।” গ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের সুলেখা মাহাতো থেকে শুরু করে অনেকেরই বক্তব্য, “ভোট আসে ভোট যায়, কিন্তু কাঁটাতারের যন্ত্রণা মেটে না। আমরা বেশ কয়েক বছর থেকে দাবি করে আসছি, যেভাবেই হোক গ্রামের পশ্চিম দিকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে পূর্বে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে দেওয়া হোক।” তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সোহম চট্টোপাধ্যায় এলাকায় প্রচার করেছেন। মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলও প্রচার করেছে। কিন্তু সমস্যার সমাধান কি হবে? সেই প্রশ্ন থাকছেই।

    গ্রামের অমিত মাহাতো বলেন, “আগে বাংলাদেশের চর পাকুরিয়া মৌজার অন্তর্ভুক্ত ছিল আমাদের গ্রামটি। এখন ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। জমি থাকা সত্ত্বেও আমাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। কারণ আমাদের নামে এখনও জমির কাগজপত্র রেকর্ড হয়নি, সেটা হয়তো হবে। তবে মূলত আমাদের দাবি যেভাবেই হোক কাঁটাতারের বেড়া ভারতের দিক থেকে সরিয়ে বাংলাদেশের দিকে দিতে হবে।” তাঁদের অভিযোগ, “ভোট এলে সবাই বলে, এবার হয়ে যাবে। কিন্তু হচ্ছে কই? কেউ বোঝে না যন্ত্রণা।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)