• বাজল ৬টার ঘণ্টা! লাইনে দাঁড়িয়েও অমিল মদ, খালি ব্যাগ নিয়েই ফিরতে হল বহু সুরাপ্রেমীকে
    প্রতিদিন | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • দাদা, ভোটের লাইনে ৬টার মধ্যে দাঁড়ালে ভোট দিতে দেয়। আমিও ৬টার আগেই মদের লাইনে দাঁড়িয়েছি। দিতেই হবে। ঘড়িতে তখন সন্ধে ৬টা ০২। চাঁদনি চত্বরের মদের দোকানের বাইরে অন্তত জনা দশেকের লাইন তখনও। প্রত্যেকেরই হাতে ব্যাগ। কতক্ষণে কাউন্টারে পৌঁছবেন তার জন্য হুড়োহুড়ি। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ছ’টা পেরোতেই ঝাঁপ ফেললেন মালিক। অগত্যা খালি ব্যাগ নিয়েই ফিরতে হল বহু সুরাপ্রেমীকে।

    শনিবার সন্ধে ৬টা বাজতেই বন্ধ হল শহর-শহরতলির সমস্ত মদের দোকান, বার। খুলবে আবার ভোটের পর। মানে ৩০ এপ্রিল। ফের বন্ধ ভোটের ফলাফলের দিন। মানে ৪ মে। ফলে আগামী কয়েকদিনের মদের স্টক শুক্র আর শনিবারই সেরে রেখেছেন মদপ্রেমীরা। তবে অনেকেই পাননি পছন্দের ব্র্যান্ড। পাননি যতটা প্রয়োজন তত বোতল মদ বা বিয়ারও।

    প্রথম দফা ভোটের (Bengal Election 2026) জন্য গত ২০ এপ্রিল আচমকা বন্ধ হয়ে যায় মদের দোকান। শুক্রবার সকালে তা খুলতেই উপচে পড়েছে ভিড়। মুহূর্তে শেষ হয়ে যায় বিভিন্ন দোকানের স্টক। ফলে অনেকেই মদ কিনতে এসেও খালি হাতে ফিরেছেন এদিন। শনিবার ফের দোকান খুলতেই শহর থেকে জেলার মদের দোকানের সামনে ভিড় দেখা যায়। অনেকে স্টক করেছেন। বহু লোক আবার এই সুযোগে ব্ল‍্যাক করবেন বলে প্রচুর মদ তুলে রেখেছেন। ফলে দুপুরের মধ্যে বহু দোকানে স্টক শেষ। বিকেলে তাই দোকানে গিয়েও মদ পাননি অনেকে। নিয়ম মেনে এদিন ছ’টাতেই বন্ধ সমস্ত দোকান, পাব, বার।

    টানা চার দিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার সকাল থেকে মদের দোকান খোলে রাজ্যে। মদের দোকানের মালিকরা জানাচ্ছেন, সাধারণ সময়ে সারা দিনে যে পরিমাণ মদ বিক্রি হয়, শুক্রবার দুপুরের মধ্যে তার কয়েক গুণ বেশি মদ বিক্রি হয়েছে। দেশি ও বিদেশি-সব কিছুরই চাহিদা তুঙ্গে। নতুন স্টক আসার পর শনিবারও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সব শেষ হয়ে গিয়েছে।

    প্রথম দফা ভোটের আগে আচমকাই ২০ এপ্রিল সর্বত্র মদের দোকান বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। তার পর শুক্রবার সকাল থেকে মদের দোকানগুলি আবার খুলেছে। শনিবার ফের বন্ধ। ব্যবসায়ীদের কথায়, মদের দোকান বন্ধের কথা আচমকা ঘোষণা করা হয়। সেই কারণেই সমস্যা হচ্ছে। আগে থেকে আভাস না-পাওয়ায় দোকানেও পর্যাপ্ত মদ মজুত করা ছিল না। তার সুযোগও মেলেনি। ফলে শুক্রবার এবং শনিবারের চাহিদা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। এসপ্ল্যানেড চত্বরের দোকানের ম্যানেজার গোবিন্দ রায় বলেন, “সকাল ১১টায় দোকান খুলেছি। তার আগে থেকেই দোকানের সামনে লাইন পড়ে গিয়েছিল। অনেকে দেশি খুঁজছেন। কিন্তু সব বিক্রি হয়ে গিয়েছে।”

    অনলাইনে অনেকে মদ কেনেন। কিন্তু সেখানেও ‘স্টক’ শেষের পথে। গরমে বিয়ার শেষ। এদিন সন্ধের দিকে আর এক দোকানের ম্যানেজার শ্যামল বিশ্বাস বলেন, “আমাদের এখানে বিয়ার শেষ। সকাল থেকে ক্যান বিয়ার অনেক বিক্রি হয়েছে। একটু কমা মদ মুহূর্তে শেষ। কিছু দামি মদ শেষের দিকে লোকে পেয়েছেন।” শহরের রেস্তরাঁ বা পানশালাগুলিতেও এই ক’দিন মদ বিক্রি নিষিদ্ধ। তবে সেখানে এখনও ‘স্টক’ ফুরিয়ে যায়নি। দোকানের মতো রেস্তরাঁ থেকে দেদার বোতল কিনে নিয়ে যেতে পারছেন না ক্রেতারা। টুকটাক বিক্রি চলছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)