• ‘বিজেপি ঘোড়া কেনাবেচা করবে’, বাংলাতেও অপারেশন পদ্মের আশঙ্কায় সরব মমতা
    প্রতিদিন | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের একদফা হয়েছে। বাকি আরেক দফা। তবে ইতিমধ্যেই ফলাফল কেমন হতে চলেছে, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে গিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের তরফে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, তাঁরা ১১০-এর বেশি আসন পাবেন প্রথম দফার ১৫২টির মধ্যে। এদিকে শাসক শিবিরে দাবি, ১৩০-এর বেশি আসনে জিতবেন তাঁদের প্রার্থীরা। সবকটি রাজনৈতিক দল নিজেদের নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগিয়ে হিসেবনিকেশ করছে। এর মাঝেই বড়সড় আশঙ্কার কথা প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল দুই তৃতীয়াংশ আসন না পেলে পরে বিধায়ক কেনাবেচা করে বিজেপি সরকার ভাঙার চেষ্টা করবে বলে মনে করছেন তিনি। তাই প্রচারে তাঁর আবেদন, জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে দিকে দিকে তৃণমূল প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করতে হবে।

    গত প্রায় দেড়মাস ধরে রাজ্যজুড়ে প্রচারের পর শেষবেলায় নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে নিবিড় জনসংযোগ সারছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানে তিনি ‘ঘরের মেয়ে’ হলেও প্রচারে এতটুকুও খামতি রাখছেন না। শনিবার ভবানীপুরে একাধিক রোড শো, জনসভা করেছেন। সন্ধ্যায় ডাঃ রাজেন্দ্র রোড এবং জাস্টিস দ্বারকানাথ রোডের সংযোগস্থলের জনসভায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে প্রচারসঙ্গী করেন মমতা। সেখান থেকে আত্মবিশ্বাসী সুরে তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমাদের সরকারই আসছে, আপনারা জানেন। আর সেক্ষত্রে পার্টির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমাকেই সরকার লিড করতে হবে। কিন্তু দুই তৃতীয়াংশ আসন যদি আমরা না পাই, তাহলে বিজেপি বসে আছে, বিধায়কদের কিনতে। যেভাবে ওরা মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশে সরকার করেছে। তাই আমার আবেদন, যে ১৪২ টি আসনে পরদিন ভোট আছে, আপনারা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের ভোট দিতে বিপুল আসনে জয়ী করুন।”

    এদিনের প্রচারে মমতা এও বলে দিলেন যে তিনিই চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। আসলে ভবানীপুরে এবার ভোটের লড়াই চলছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিরোধী দলনেতার। ছাব্বিশের ভোটে তাই ভবানীপুর সবচেয়ে হাইভোল্টেজ আসন নিঃসন্দেহে। বিজেপি এবার বাংলায় সরকার গড়তে আত্মবিশ্বাসী। তবে এখনও তাদের নীতি অনুযায়ী কোনও মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নেই। ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী জিতলে তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হবেন কিনা, তা ঠিক নেই। অন্যদিকে, তৃণমূল প্রার্থী নিজে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জিতে ফের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসা সময়ের অপেক্ষা বলে দাবি শাসক শিবিরের। এসবের মাঝে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এ বিষয়ে আত্মপ্রত্যয়ী মন্তব্য করলেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)