‘দিদি যেখানে আমি সেখানে’, কটাক্ষের মাঝে ‘নিন্দুকদের মুখে ঝামা ঘষে’ ভবানীপুরে প্রচার ইমনের
প্রতিদিন | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বিগত কয়েক মাস ধরেই বিনোদুনিয়ার অন্দরে ফিসফাস ছিল, ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আবহেই নাকি ইমন চক্রবর্তী রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করতে চলেছেন! এমনকী এও রটে যায় যে, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়িকা ছাব্বিশ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের তরফে টিকিট পেতে চলেছেন। সেসময়ে বঙ্গবিভূষণ প্রাপ্তি থেকে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ গাওয়ার জন্য কম কটাক্ষের শিকার হতে হয়নি গায়িকাকে। এমনকী ইমনের উদ্দেশে ‘চটিচাটা’ কটাক্ষও উড়ে এসে এসেছিল! এবার সমালোচকদের মুখে ঝামা ঘষে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে সভায় হাজির গায়িকা।
একসময়ে ছাত্র রাজনীতি করতেন। তবে পরবর্তীতে সঙ্গীতই ধ্যানজ্ঞান হয়ে ওঠে ইমনের। সাম্প্রতিক অতীতে একাধিকবার তৃণমূল সরকারের প্রতি আস্থার কথাও জানিয়েছেন। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি। এবার তৃণমূল সুপ্রিমোর হয়ে ভবানীপুরে ভোটপ্রচার করলেন ইমন চক্রবর্তী। প্রচার মঞ্চে দাঁড়িয়ে গায়িকার মন্তব্য, “একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে এই বাংলায় দিদির সরকারের কাছ থেকে, আপনাদের কাছ থেকে যে সম্মান পেয়েছি সেটা শিরোধার্য। আর দিদি যেখানে আমি সেখান।” এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘একলা চলো রে’ গেয়ে ইমন রাজ্যবাসীকে মনে করিয়ে দিলেন, “এই গান দিদির জন্য। আর এই যা চলছে আমাদের গোটা বাংলাজুড়ে, যে মানুষ একা নেতৃত্ব দেন, তাঁকে আমরা অনুসরণ করি সকলে। তাঁর জন্য একটা গান তো গাইতেই হবে। আমার খুব আনন্দ হয়, খুব শান্তির ঘুম হয় এটা ভেবে যে, আমাদের রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন।” ভবানীপুরের সভা থেকে এহেন ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত প্রকাশ্যে আসতেই নেটভুবনে ফের চর্চার শিরোনামে গায়িকা। ‘বহুরূপী’ বলেও কটাক্ষ করা হয় তাঁকে। তবে ইমন কোনওদিনই কটাক্ষ-সমালোচনাকে পাত্তা দেননি। এবারও নিন্দুকদের মুখে ঝামা ঘঁষে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, যতই কটাক্ষ, সমালোচনা হোক না কেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই রয়েছেন।
মাস তিনেক আগে শোনা গিয়েছিল, লিলুয়ার ভূমিকন্যা হিসেবে উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী হতে পারেন ইমন চক্রবর্তী। আসলে গতবছর মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কালীপুজোয় গিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তাঁর কণ্ঠে উন্নয়নের পাঁচালিও শোনা যায়। দুয়ে দুয়ে চার করে সেখান থেকেই ভোটে লড়ার জল্পনার সূত্রপাত! গুঞ্জন চাউড় হতেই গায়িকাকে নানা কটাক্ষের সম্মুখীন হতে হয়। এমনকী তাঁর স্বর্গীয় মাকে নিয়েও কটু মন্তব্য করতে ছাড়েনি নেটবাসিন্দাদের একাংশ। এমতাবস্থায় সোশাল মিডিয়া থেকে অবসর ঘোষণা করেছিলেন ইমন। কিন্তু পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেই সেই সিদ্ধান্ত বদল করেন। ভোটের মুখে ‘বাধ্য ছাত্রী’র মতো ইমনের এহেন পদক্ষেপই তাঁর নির্বাচনে লড়ার জল্পনা আরও পোক্ত করে। গায়িকার অনুরাগীদের একাংশও মুখিয়ে ছিলেন ভোটের ময়দানে তাঁকে দেখার জন্য। কিন্তু জল্পনাই সার! ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের প্রার্থী তালিকায় সাংগঠনিক স্ট্র্যাটেজিতেই জোর দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তবে সেবার আর চুপ থাকেননি ইমন। সোশাল মিডিয়ায় ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টে নিন্দুকদের কার্যত একহাত নেন গায়িকা। প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর নিন্দুকদের উদ্দেশে গায়িকা বলেন, “বিগত কয়েকমাস ধরে আপনারা আমাকে বিভিন্ন জায়গায় দাঁড় করিয়েছিলেন। এই যেমন উত্তরপাড়া, দক্ষিণপাড়া, বালি, সিমেন্ট, আমতলা, জামতলা ইত্যাদি। কেউ কেউ আবার কেওড়াতলাতেও নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন! এবার আপনাদের কাছে করজোড়ে একটি বিনীত অনুরোধ রাখছি- প্লিজ, আমাকে এবার একটু নিজের পায়ে দাঁড়াতে দিন।” এবার ‘প্রিয় দিদি’র হয়ে প্রচারমঞ্চে ঝড় তুললেন ইমন চক্রবর্তী।