ভারতের মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে নতুন মাইলফলক। শ্রীহরিকোটার উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে শীঘ্রই রওনা দেবে দেশের প্রথম প্রথম অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’। ইতিমধ্যেই হায়দরাবাদ থেকে এই রকেটের যাত্রার সূচনা করেছেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি। ‘বিক্রম-১’ এখন শুধু সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের অপেক্ষায়।
সূত্রের খবর, সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারে দিন কয়েকের মধ্যেই রকেটের বিভিন্ন অংশ জোড়া লাগানো, সিস্টেম চেক এবং শেষ মুহূর্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ের সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ইতিমধ্যেই সফল ভাবে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’ সংস্থার আধিকারিকরা।
‘বিক্রম-১’ সফল হলে নতুন ইতিহাস তৈরি করবে ভারত। এর ফলে ভারত প্রথমবার কোনও বেসরকারি কোম্পানির তৈরি রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে উপগ্রহ পাঠাবে। এতদিন শুধুমাত্র সরকারি সংস্থা ইসরো (ISRO) মহাকাশে রকেট পাঠাত। কিন্তু এ বার সেই ধারায় বদল আসতে চলেছে। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রমোশন অ্যান্ড অথরাইজ়েশন সেন্টার (IN-SPACe) ইতিমধ্যেই এই মিশনের ছাড়পত্র দিয়েছে। যদিও, ‘বিক্রম-১’ উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে সমস্ত রকম কারিগরি সাহায্য করছে ISRO। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানিয়েছেন, আগে ছোট-খাটো একাধিক পরীক্ষা হলেও, এ বারের মিশন বেশ কঠিন। কারণ এ বারের লক্ষ্য উপগ্রহকে মহাকাশের একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করা, যা আগের পরীক্ষাগুলোর চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।
‘বিক্রম-১’ শ্রীহরিকোটায় পৌঁছনোর পরে রকেট উৎক্ষেপণের শেষ পর্যায়ের কাজগুলি করা হবে। শুরু হবে সিস্টেম চেকিং-এর দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই উৎক্ষেপণের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বা উইন্ডো ঠিক করা হবে বলে সূত্রের খবর। ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-র আধিকারিক জানিয়েছেন, রকেট উৎক্ষেপণের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলো ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এ বার লঞ্চপ্যাড থেকে আসল লড়াই শুরুর অপেক্ষা।
বিক্রম-১ হলো একটি মাল্টি-স্টেজ লঞ্চ ভেহিকল। এটি ৩৫০ কেজি পর্যন্ত ওজনের উপগ্রহকে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে দিতে সক্ষম। এই রকেট উচ্চতায় প্রায় সাততলা বাড়ির সমান। এই রকেট তৈরিতে উন্নত কার্বন কম্পোজ়িট কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়াও, এই রকেটে কঠিন ও তরল জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি থ্রি-ডি প্রিন্টেড ইঞ্জিন লাগানো হয়েছে।
ভারত এখন মহাকাশ গবেষণার দরজা বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য খুলে দিয়েছে। ২০২২ সালে স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ‘বিক্রম-এস’ রকেট মহাকাশে পাঠিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে সেটি ছিল একটি সাব-অরবিটাল মিশন। কিন্তু বিক্রম-১ ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-র প্রথম অরবিটাল মিশন। ISRO-র এক চেটিয়া আধিপত্যের বাইরে গিয়ে বেসরকারি স্টার্টআপগুলোর এই উত্থান ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তিতে এক বড়সড় বিপ্লব আনতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।