• ‘চৈত্র সেলের মতো ডিসকাউন্টে…’, কাটোয়া, পূর্বস্থলীর প্রার্থীদের নিয়ে কটাক্ষ অভিষেকের?
    এই সময় | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • দ্বিতীয় দফায় ভোট রয়েছে পূর্ব বর্ধমানে। রবিবার পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী বসুন্ধরা গোস্বামী ও কাটোয়া কেন্দ্রের প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে সভা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিনের সভা থেকে বিজেপি প্রার্থীদের আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ। বিজেপির প্রার্থীদের নিয়ে অভিষেকের কটাক্ষ, ‘যাঁদের বিজেপি কর্মীরাই পছন্দ করে না, তাঁদের চৈত্র সেলের মতো ডিসকাউন্টে আপনাদের কাছে পাঠাচ্ছে বিজেপি।’

    বিজেপি পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে গোপাল চট্টোপাধ্যায়কে, অন্য দিকে কাটোয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন কৃষ্ণ ঘোষ। পূর্বস্থলী উত্তরের প্রার্থীকে নিয়ে অভিষেক বলেন, ‘২০২০ সালে কাটোয়ার পঞ্চায়েত কারুলিয়া গ্রামে রাতের অন্ধকারে রেশনের বরাদ্দ চাল পাচার করতে ধরা পড়েছিলেন এক রেশন ডিলার। ওই রেশন ডিলারের নাম রুনা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বামীর নাম বসন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর মামা ও মামী। পরের দিন যখন সরকারি অফিসাররা রেশন ডিলারের বাড়িতে তদন্ত করতে যান, গোপাল চট্টোপাধ্যায় সরকারি অফিসারদের বাধা দিয়ে এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন। তখন থেকে এই গোলাপ চট্টোপাধ্যায়কে এলাকার লোকজন ‘চাল চোর’ গোপাল বলে ডাকে।’

    বিষয়টি নিয়ে বিজেপি প্রার্থী গোপাল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। পূর্বস্থলীতে জিততে পারবে না। সেই কারণেই ব্যক্তি কুৎসা করা হচ্ছে। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, আমাদের এখানে গ্রামে মিডিয়া নিয়ে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেখে যাক- কোথায় আমায় চাল চোর বলা হয়।’

    কাটোয়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী নিয়েও এ দিন কটাক্ষ করেন অভিষেক। কাটোয়ার প্রার্থীকে নিয়ে বিজেপির অন্দরেই দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, ‘কাটোয়া বিধানসভায় যিনি প্রার্থী হয়েছেন, তাঁকে নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ। ২০২৪ সালের লোকসভার সময়ে এই বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ উঠেছিল। বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছিল।

    পূর্বস্থলী কেন্দ্রে এ বার তৃণমূলের প্রার্থী বাম আমলের প্রয়াত মন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা বসুন্ধরা গোস্বামী। তিনি এই কেন্দ্রে ‘বহিরাগত’ প্রার্থী। বসুন্ধরা জিতলে বিধায়ককে কি পাবেন সাধারণ মানুষ? সেই প্রসঙ্গে সভায় আগত কর্মী, সমর্থকদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, ‘এখানে বসুন্ধরাকে দল প্রার্থী করেছে। একটা শর্ত দেওয়া হয়েছিল। সাতদিনের মধ্যে চার দিন এখানে পড়ে থাকতে হবে। কার্যালয় থেকে বাড়ি– এখানে করতে হবে। যে কোনও প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপনাদের অভিযোগ থাকলে, তৃণমূলের প্রার্থী মাথা নিচু করে যদি মানুষের জন্য কাজ না করে পরের নির্বাচনে তৃণমূল তাঁকে প্রার্থী করবে না। মানুষের থেকে বড় কেউ নয়।’

  • Link to this news (এই সময়)