প্রথম দফায় বিক্ষিপ্ত গোলমাল ছাড়া মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভোটই হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। ভোটদানের হারেও বাংলা রেকর্ড গড়েছে দেশে। এই সব দিক নজরে রেখে দ্বিতীয় দফায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটসাঁট করা হচ্ছে। সেই সূত্রেই কলকাতার পরিস্থিতি নিয়েও বিশেষ ভাবনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী বুধবার, দ্বিতীয় দফার ভোটে গোটা শহর জুড়েই টহল দেবে পুলিশ-আধাসেনার বাইক।
কলকাতার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে রবিবার সমস্ত সিভিল সেক্টর অফিসার, পুলিশ সেক্টর অফিসার, জেনারেল অবজ়ার্ভার, পুলিশ অবজ়ার্ভার, স্পেশ্যাল অবজ়ার্ভার, পুলিশের সিনিয়র আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিল কমিশন। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দ। বৈঠক পর নগরপাল জানান, বুথ ধরে ধরে যে সব পরিকল্পনা রয়েছে, কোথায় কত কুইক রেসপন্স টিম, কন্ট্রোল রয়েছে, অভিযোগ জানানোর কী ব্যবস্থা আছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্ব কী কী, কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে কী করা হবে, এই সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
অজয় জানান, কলকাতা জুড়ে মোট ১৬০টি বাইক টহল দেবে। এই কাজ পুলিশ এবং আধাসেনা মিলে করবে। পাশাপাশি, বুথে বুথে নজরদার ক্যামেরা থাকবে। বুথের পরিস্থিতি বুঝে আরও ক্যামেরা লাগানো হতে পারে। অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু কলকাতা নয়, সর্বত্রই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কড়াকড়ি আনতে চাইছে কমিশন। কমিশন সূত্রেই খবর, স্পর্শকাতর বুথে নজরদারি চালাতে দ্বিতীয় দফায় ড্রোনের সংখ্যাও বাড়ানো হবে। এ ছাড়াও শুধু বুথ বা বুথ সংলগ্ন এলাকা নয়, এ বার বুথমুখী সব রাস্তাতেও ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। মূলত কলকাতা এবং হাওড়ার মতো ঘিঞ্জি বা ঘনবসতি এলাকায় যে সমস্ত বুথ থাকবে, সেই সমস্ত বুথের ক্ষেত্রেই তা মেনে চলা হবে।
রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। সেখানে নির্বাচনী আধিকারিক, প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে মিটিং করেন তিনি। তার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিইও বলেন, ‘বিভিন্ন দলের এজেন্টদের সঙ্গে কথা বললাম আমরা। সকলকে আশ্বস্ত করলাম। ওঁদের বললাম, আরও বেশি করে মানুষ যাতে ভোট দিতে আসেন, সেই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে।’