নিতাই রক্ষিত
কেজি কেজি খাসির মাংস থেকে শুরু করে পেটি পেটি বিয়ার। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মুখে মুখেই বাজি ধরে ফেলছেন লোকজন। বাজির মধ্যে খাসির মাংস, বিয়ার তো আছেই, নগদ টাকাও বাজি ধরছেন অনেকে। সেই টাকার পরিমাণ নেহাত কম নয়। ৫০০, ১০০০ তো আছেই। ১০-১৫ এমনকী ২০ হাজার টাকাও বাজি ধরছেন অনেকে। রাজ্যে পরিবর্তন হবে, নাকি প্রত্যাবর্তন, কোন কেন্দ্রে কোন দল জয়ী হবে এই নিয়েই চলছে বাজির খেলা। চায়ের দোকানে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কিংবা পাড়ার মোড়ের আড্ডায়, হাটেবাজারে, অফিসে সর্বত্রই বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে চলছে আলোচনা।
প্রথম দফায়, ২৩ এপ্রিল বিধানসভা ভোট হয়ে গিয়েছে রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রে। এর মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্রও রয়েছে। এ জেলার ১২২ জন প্রার্থীর ভাগ্য ইভিএম বন্দি হয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে স্ট্রং রুমে রয়েছে। জেলায় ভোটদানের হার গড়ে ৯২.১৯ শতাংশ। পশ্চিম মেদিনীপুরে মোট ভোটার ৩৭,৭০,৭৯৫ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৪,৭৬,১৩২ জন।
পশ্চিম মেদিনীপুরে চারটি গণনা কেন্দ্রে ভোট গণনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে মেদিনীপুর কলেজ, মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল, খড়্গপুরের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় এবং ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়। প্রতিটি গণনা কেন্দ্রের স্ট্রং রুম সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। পাহারায় রয়েছে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী। সিসি ক্যামেরার ছবি ডিসপ্লে করা হচ্ছে বিভিন্ন গণনা কেন্দ্র সংলগ্ন একটি রুমে। বিভিন্ন দলের প্রার্থী কিংবা প্রতিনিধি এসে মাঝেমধ্যেই দেখে যাচ্ছেন সেই সিসিটিভি ফুটেজ।
প্রথম দফার ভোট মিটতেই বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে জয়-পরাজয় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ, আলোচনা শুরু হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ২০২১ সালের নির্বাচনে ১৩টি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস এবং দু’টি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। খড়্গপুর সদর ও ঘাটাল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি জয়লাভ করেছিল।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসনে তৃণমূল এবং বিজেপির জয়-পরাজয়ের ব্যবধান দুই থেকে পাঁচ হাজারের মধ্যে ছিল। তার পরে পঞ্চায়েত, লোকসভা কিংবা পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস একচ্ছত্র ভাবে জয় লাভ করে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল তার সেই জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারবে, নাকি সেখানে থাবা বসাবে অন্য কোনও দল? এই নিয়েই চায়ের আড্ডায় ঝড় উঠছে।
আলোচনার রেশ এমন পর্যায়ে যাচ্ছে যে, ভোটের ফলাফল নিয়ে বাজি ধরার ব্যাপারটাও চলে আসছে। খাসির মাংস বাজি ধরছেন, কেউ আবার বাজি রেখেছেন কয়েক পেটি বিয়ার। এমনকী নগদ টাকাও বাজিতে ধরছেন অনেকে।
মেদিনীপুর শহরের পঞ্চুর চক, গান্ধী স্ট্যাচু এলাকা, এলআইসি মোড়, বটতলা চক এলাকার চায়ের দোকানগুলিতে ভোট নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। মেদিনীপুর শহরের কাঁসাই নদীর গান্ধীঘাটে রোজ সকাল-বিকেল বহু মানুষ সময় কাটাতে যান। নদীর হাওয়া খেতে খেতেই জমে উঠেছে ভোট-তরজা। সেখানেই বাজিও ধরে ফেলছেন কেউ কেউ।