গোপাল সোনকার
তৈরি হয়েছে নতুন বাস টার্মিনাস। ফলে দূরপাল্লার বাস ঢুকতে পারছে না বর্ধমান শহরে। প্রশাসনের নির্দেশে শহরের ভিতর টাউন সার্ভিস ছাড়া অন্যান্য বাস চলাচল বন্ধ। এর প্রভাব পড়েছে বর্ধমান শহরের ব্যবসায়। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শহরের ভিতরে বাস না ঢোকার কারণে তাদের ব্যবসার হাল খারাপ হচ্ছে। এই বিষয়টিকেই প্রচারে হাতিয়ার করছেন বিরোধী দলের প্রার্থীরা। ভোটে জিতলে ‘ক্রিস-ক্রস’ পদ্ধতিতে বর্ধমান শহরের মধ্যে বাস চালানো হবে বলে আশ্বাস দিচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের আশ্বাসে কিছুটা হলেও ভরসা পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী খোকন দাসের দাবি, তাঁদের আমলে শহরের রাস্তা চওড়া হয়েছে। ওই রাস্তা দিয়েই বাস চালানো যাবে।
২০১১ সালে সরকার গঠন করে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। এর পরেই বর্ধমান শহরের যানজট কমানোর লক্ষ্যে ২০১২ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয় তিনকোনিয়া বাসস্ট্যান্ড। তার বদলে শহরের দুই প্রান্তে আলিশা ও নবাবহাটে নতুন বাস টার্মিনাস তৈরি হয়। এর পর শহরের ভিতর দিয়ে দূরপাল্লার বাস চলাচল সীমিত করে জেলা প্রশাসন। ২০১৪ সালের ৬ জুন প্রশাসনিক নির্দেশ জারি হয় শহরের ভিতর টাউন সার্ভিস ছাড়া অন্যান্য বাস চলাচল বন্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। তবে প্রশাসনের নির্দেশ বহাল রাখার কথা জানিয়ে দেয় আদালত। ২০২২ সালে আদালতের নির্দেশের পরে জেলা প্রশাসন আরও কড়াকড়ি শুরু করে। বর্তমানে টাউন সার্ভিস ও নির্দিষ্ট যানবাহন ছাড়া অন্য দূরপাল্লার বাস শহরের ভিতরে ঢোকা বন্ধ।
এতেই ফাঁপড়ে পড়েছেন বড়- ছোট ও খুচরো ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, শহরের ভিতরে বাস না ঢোকার কারণে তাদের ব্যবসার হাল খারাপ হচ্ছে। আগের মতো বাইরের বাস ঢুকলেই এই সমস্যার সমাধান হবে। এখানেই প্রশ্ন। কে ফেরাবে ব্যবসায়ীদের হাল?
চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি শীর্ষেন্দু সাধু জানিয়েছেন, বর্ধমান (Bardhaman) শহরে আবার আগের পদ্ধতিতে বাস চলাচল করলে তাঁদের ব্যবসার হাল ঘুরে দাঁড়াবে। বর্ধমান শহরে বাস ঢুকলে বি সি রোডের ব্যবসায়ীদের হাল ফিরবে। এই কারণে ‘ক্রিস-ক্রস’ পদ্ধতিতে চালানোর দাবি করেছেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘এই দাবি নিয়ে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে দরবার করেছি। মুখ্যমন্ত্রীরও দ্বারস্থ হয়েছি।’ তাঁর দাবি, এ বার ভোটে আগে সমস্ত বিরোধী দল তাদের আশ্বাস দিচ্ছে। ভোটে জিতলে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বর্ধমান শহরে আবার পুরোনো পদ্ধতিতে বাস চলাচল করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থী।
কী বলছেন বিরোধী দলের প্রার্থীরা?
বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস (Congress) প্রার্থী গৌরব সমাদ্দার জানিয়েছেন, শাসক দলের এক বিধায়ক এসে শহরের বাস চলাচলে বন্ধ করে দেন। সেই বিদায়ী বিধায়কই আবার প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বর্ধমান শহরকে খানাখন্দে ভরে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি ভোটে জিতলে শহরের রাস্তা সুন্দর হবে। সেই সঙ্গেই শহরের মধ্যে ‘ক্রিস-ক্রস’ পদ্ধতিতে বাস চলবে।
একই দাবি বিজেপি (BJP) প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রর। তাঁর দাবি, বর্ধমান (Burdwan) শহরের প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র বিসি রোড। কিন্তু বাইরে থেকে আসা লোকজন সরাসরি সেখানে আসতে পারছেন না। এই কারণে বিসি রোডের পাশাপাশি শহরের অন্য এলাকাতেও বড়-ছোট সমস্ত ব্যবসায়ীরা সমস্যায় রয়েছেন। তিনি জিতলে এই সমস্যা আগে মেটাবেন।
তিনকোনিয়া বাসস্ট্যান্ডকে সিটি বাসস্ট্যান্ড করে বর্ধমান শহরে ‘ক্রিস-ক্রস’ পদ্ধতিতে বাস চলাচল শুরু করা হবে জানিয়েছেন সিপিএম (CPIM) প্রার্থী সুদীপ্ত গুপ্ত। এটা তাঁদের অ্যাজেন্ডা বলে জানিয়েছেন তিনি।
শাসকদলের বিধায়কের দাবি
তবে, অন্য চিন্তা বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাসের। তিনি জানান, এখন বিসি রোড বড় হয়েছে। সম্প্রসারণের পরে ইলেট্রিক পোল সরছে। ফলে, কার্জন গেট থেকে কুমারপুর পর্যন্ত অর্থাৎ বিসি রোড (BC Road) দিয়েই বাস চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভোটে জিতলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস বর্ধমানের জন্য যে কাজ কাজ করেছে, সেখানে বিরোধীদের আর কোনও কাজই করতে হবে না।