মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নযজ্ঞেই মানুষের আস্থা রয়েছে। তার প্রভাবই দেখা যাবে ভোটের ফলাফলে। মগরাহাট পশ্চিমে এ বার শাসকদল এক লক্ষেরও বেশি ভোটে জিতবে বলে আশাবাদী ওই বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সামিম আহমেদ। তিনি বলেন, ‘প্রচারে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আমি অভিভূত। যে যে গ্রামে গিয়েছি, সাধারণ মানুষ ফুল-জল নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। আমাকে আশীর্বাদ করছেন।’
মগরাহাট পশ্চিমে তিন বারের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লাকে এ বার টিকিট না দিয়ে সামিমে আস্থা রেখেছে তৃণমূল। তৃণমূলের অভ্যন্তরে তিনি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তৃণমূল সূত্রে খবর, গত লোকসভা ভোটের আগে থেকেই মগরাহাট পশ্চিমে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চোরাস্রোত বইছিল। তার মোকাবিলায় সাংগঠনিক স্তরে নানা পদক্ষেপও করেছে শাসকদল। কিন্তু তা পুরোপুরি এড়ানো যায়নি। এই সমস্ত বিষয় নজরে রেখেই মগরাহাটে সামিমকে প্রার্থী করা হয়েছে। কারণ, এই কেন্দ্র তাঁর চষে বেড়ানো। কয়েক মাসেই সামিমকে ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট পশ্চিম ও মহেশতলা বিধানসভার কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দিয়েছিল তৃণমূল।
তবে অনেকর মত, মগরাহাট পশ্চিমে এ বার ত্রিমুখী লড়াই। সেখানে বিজেপি প্রার্থী করেছে গৌরসুন্দর ঘোষকে। তিনি পেশায় আইনজীবী এবং এলাকার বাসিন্দা। বিজেপির দাবি, তাদেক প্রার্থীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে এলাকায়। ২০২১ সালের বিজেপি প্রার্থী ধূর্যটি সাহার মৃত্যু হয়েছে সম্প্রতি। এতে খানিক সহানুভূতির ভোট পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য দিকে, আইএসএফ প্রার্থী আজিজ় আল হাসান। তাঁকে সমর্থন করছে বামফ্রন্ট। গত বার এই আসনে আইএসএফ-ও নজরকাড়া ভোট পেয়েছিল। আজ়িজ বলেন, ‘এ বারও আমরা প্রচারে দারুণ সাড়া পেয়েছি। আর তৃণমূল প্রার্থীর যেমন মনে হচ্ছে, উনি এক লক্ষ ভোটে জিতবেন, আমারও কিন্তু একই জিনিস মনে হচ্ছে।’
যদিও সামিমের দাবি, মগরাহাট পশ্চিমে এ বার ভোটের প্রচারে বিরোধী প্রার্থীদের দেখাই যায়নি। তাঁর কথায়, ‘মানুষের সঙ্গে ওদের জনসংযোগ নেই। লড়াইতো দূরে থাক, বুথে বসার মতই লোক নেই বিরোধীদের।’ প্রসঙ্গত, শনিবারই এই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল মাজিদ হালদার সামিমের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হয়ে যেতে পারে বলে যে দাবি করেছিলেন বিরোধীরা, এই যোগদানে সেই সমস্যাও অনেকটা মোকাবিলা করা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতিতে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের সরিষা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ‘পাড়া চলো’ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন সদ্য কলেজ পাশ করা যুবক সামিম আহমেদ। তারই অঙ্গ হিসাবে তিনি বাড়ি বাড়ি ঘুরে মানুষের অভাব–অভিযোগ শুনতেন। মানুষের সমস্যা মেটাতে কখনও ছুটতেন গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে, কখনও আবার ব্লক অফিসে গিয়ে বিডিও–এর কাছে দরবার করতেন। মহকুমা এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করতেন। তাঁর সেই কর্মকাণ্ডের জন্যই ডায়মন্ড হারবার তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের নজরে পড়ে যান সামিম। অচিরেই হয়ে ওঠেন তৃণমূলের সেনাপতির ‘ব্লু–আইড বয়’। শিক্ষিত, মিষ্টভাষী নেতা হিসেবে অল্পদিনের মধ্যেই তিনি এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা দেখেই অভিষেক তাঁকে সরিষা অঞ্চলের দলীয় অবজ়ার্ভার করে দেন। তারপর আর তাঁকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। রকেটের গতিতে তৃণমূলের দলীয় রাজনীতিতে উত্থান ঘটেছে তাঁর।
সামিম নিজেকে এখনও অভিষেকের সৈনিক বলতেই স্বচ্ছন্দবোধ করেন। তাঁর কথায়, ‘আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একজন সৈনিক মাত্র। তাঁর নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলি। তিনিই আমাকে মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করেছেন। উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড নিয়েই মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছি। প্রচারে বেরিয়ে মানুষের ভালোই সাড়া পাচ্ছি। জেতার পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই এগোতে চাই। আমার কেন্দ্রেও ডায়মন্ড হারবার মডেল চালু করতে চাই।’