• তৃণমূল কর্মীর বাড়ির পিছনেই বোমার পাহাড়! আইএসএফ-শাসকদলের তরজায় ‘ভয়ের পরিবেশ’ ভাঙড়ে
    প্রতিদিন | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ভোট ফিরলেই ভয় ফেরে ভাঙড়ে। এবারও ভোটবঙ্গে ভাঙড়ের চেনা ছবি বদলাল না! শনিবারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবারও বোমা উদ্ধার ঘিরে ভাঙড়ে আতঙ্ক। উত্তর কাশীপুর থানার অন্তর্গত ছেলে গোয়ালিয়া এলাকায় তৃণমূল কর্মীর বাড়ি পিছনের আমবাগানে ১০০ টি তাজা বোমা উদ্ধার। তৃণমূলের অভিযোগের তির আইএসএফের দিকে। পালটা ভয়ের বাতাবরণ তৈরির অভিযোগে শাসকদলকে দুষছে নওশাদের দল। এদিকে ভোটের আগে ভাঙড়ে বোমা উদ্ধার ঘিরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায়। একটি নির্দিষ্ট বাড়িকে কেন্দ্র করে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় সেই বাড়ির পিছনের বাগানে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতেই আমবাগান থেকে একটি ব্যাগ খুঁজে পায় পুলিশ। সেই ব্যাগ খুলতেই বোমার ভাণ্ডার! উদ্ধার হয় অন্তত ১০০টি তাজা বোমা। সঙ্গে সঙ্গে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। খবর দেওয়া হয় বম্ব স্কোয়াডে। উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করেন তারা।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। আইএসএফের অভিযোগ, “তৃণমূলের কর্মীরাই এলাকায় অশান্তি করার উদ্দেশে বোমা মজুত করে রেখেছে।” তাঁদের দাবি, “ভোটের আগে বিরোধীদের ভয় দেখানোই তৃণমূলের লক্ষ্য।” অন্যদিকে, এই অভিযোগ উড়িয়ে শাসকদলের দাবি, “তৃণমূলকে বদনাম করার জন্যই আইএসএফ কর্মীরা রাতের অন্ধকারে ওই বাগানে বোমা রেখে গিয়েছে। এখন তার দায় তৃণমূলের উপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”

    প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় নিয়মিত টহলদারি চালাচ্ছে পুলিশ-বাহিনী। পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া বোমাগুলির উৎস কী, কারা এই বোমা মজুত করেছিল ও এর নেপথ্যে বড় কোনও কারন আছে কিনা—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে কাশীপুর থানার পুলিশ। প্রসঙ্গত, শনিবারই ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণে অভিযুক্ত গ্রামে ফিরতেই স্থানীয়দের রোষ আছড়ে পড়ে তাঁর উপর। চলে বেধড়ক মারধর। তদন্তের দায়িত্বে থাকা এনআইএ-র হাতে কালই গ্রেপ্তার হন ওই অভিযুক্ত। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের বোমাতঙ্ক ঘিরে ভয়ে সিঁটিয়ে ভাঙড়।
  • Link to this news (প্রতিদিন)