• ‘এত রাতে রাস্তায় কেন?’ পুলিশের গুলিতে প্রাণ গেল ফুড ডেলিভারি কর্মীর, গুরুতর জখম ১ জন, দিল্লিতে চাঞ্চল্য
    এই সময় | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • বন্ধুর সঙ্গে অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে ফিরছিলেন পাণ্ডব কুমার (২১) নামে এক যুবক। তখন মাঝরাত। আচমকাই তাঁদের পাকড়াও করেন দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) হেড কনস্টেবল নীরজ (পদবি জানা যায়নি)। অভিযোগ, রাতে রাস্তায় বেরোনো নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে পাণ্ডবকে সোজা গুলি (Firing) করে দেন তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পাণ্ডবের। গুরুতর জখম হন তাঁর বন্ধু কৃষ্ণ পান্ডে। রবিবার দিল্লির জাফরপুর কালনা গ্রামের এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। গুলি-কাণ্ডের পর থেকে পলাতক নীরজ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত আড়াইটে নাগাদ দিল্লির জাফরপুর কালান গ্রামের রাস্তায় বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন পাণ্ডব। তিনি পেশায় ফুড ডেলিভারি কর্মী। তাঁর পিছনের সিটে বসেছিলেন কৃষ্ণ। দু’জনে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন। সেই সময়ে রাস্তায় টহল দিচ্ছিলেন নীরজ। পাণ্ডবদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যান তিনি। সোজাসুজি জিজ্ঞেস করেন, ‘এত রাতে রাস্তায় কেন?’ এ জবাবে শুরু হয় কথা কাটাকাটি। অভিযোগ, ঝগড়ার মধ্যেই আচমকা বন্দুক বের করে গুলি চালিয়ে দেন নীরজ।

    গুলি গিয়ে লাগে পাণ্ডবের বুকে। তার পরে তাঁর শরীর ফুঁড়ে পিছনে বসা কৃষ্ণের পেটে ঢুকে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনেই লুটিয়ে পড়েন রাস্তায়। গুলির বিকট শব্দে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই পাণ্ডব আর কৃষ্ণকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে পাণ্ডবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। নীরজের চিকিৎসা চলছে।

    ঘটনার পরেই পুলিশ কর্মীর দিকে আঙুল তুলেছেন পাণ্ডবের পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, ‘নীরজ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়ে দেন।’ শুধু তাই নয়, গুলি চালানোর আগে তাঁদের জাতি তুলে কুমন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ পাণ্ডবের মা মীনা দেবীর। তাঁর কথায়, ‘আমরা বিহারের বাসিন্দা। এটা জানার পরেই গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।’ পাণ্ডবই ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। মীনা বলেন, ‘আমার ছেলে নির্দোষ। সংসার চালাতে কঠোর পরিশ্রম করত। আমি এর বিচার চাই।’

    পাণ্ডবের মৃত্যুর পরেই জাফরপুর কালনা থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্তর কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নীরজ হরিয়ানার রোহতকের আকবরপুর গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৫ বছর ধরে একাই থাকতেন তিনি। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তর খোঁজে তল্লাশি চলছে। তর্কাতর্কির জেরে কী ভাবে গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)