এই সময়: রেস্তোরাঁয় খাওয়া–দাওয়ার পরে শনিবার গভীর রাতে ধর্মতলা থেকে একই স্কুটারে স্ত্রী এবং তাঁর বান্ধবীকে নিয়ে ফিরছিলেন খিদিরপুরের বাসিন্দা মহম্মদ আজ়হারউদ্দিন। অভিযোগ, বেপরোয়া ভাবে স্কুটার চালাচ্ছিলেন তিনি। এমন সময়ে রেড রোডে একটি মোটরবাইকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। আর তাতেই মৃত্যু হলো স্ত্রী এবং তাঁর বান্ধবীর। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি স্কুটার চালক ওই যুবক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্কুটারে থাকা তিন জন এবং মোটরবাইকে থাকা দু'জনের মাথায় হেলমেট ছিল না। স্কুটারের গতি এতটাই বেশি ছিল যে, দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েন পাঁচ জন।
পুলিশ জানিয়েছে, রাত ৩টে নাগাদ ধর্মতলা থেকে খিদিরপুরের দিকে যাওয়ার সময়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর জখম হওয়ায় হাসপাতালে মৃত্যু হয় স্কুটার আরোহী রাইনা সিং (২৪) এবং তাঁর বান্ধবী বিদ্যা গুরুংয়ের (১৯)। চালক আজ়হারউদ্দিন (২৮) গুরুতর আহত অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি। মোটরবাইক চালক সৈকত শিকদার এবং বিশাল মাজি ওই হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে ভর্তি রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সিগন্যালের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরবাইকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় স্কুটারটির। মোটরবাইকটিও দ্রুতগতিতে ছুটছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের বিষয়টি জানান। অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএমে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ আজ়হারউদ্দিনের স্ত্রী রাইনার মৃত্যু হয়। তার কিছুক্ষণ পরেই মারা যান বিদ্যা। তাঁরা খিদিরপুরের কার্ল মার্ক্স সরণির বাসিন্দা ছিলেন।
আজ়হারউদ্দিন এবং দুই তরুণী কেন হেলমেট পরেননি, তা খতিয়ে দেখছে ময়দান থানার পুলিশ। স্কুটার চালক এবং আরোহীরা মদ্যপান করেছিলেন কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে বেহালার বাসিন্দা বছর আঠাশের সৈকত এবং বিশাল কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁরাও কেন হেলমেট পরেননি, সেটাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই দুর্ঘটনার আগে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ জোড়াসাঁকো থানার তারাচাঁদ দত্ত লেনে আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটে। একটি স্কুটারের পিছনে ধাক্কা মারে একটি লরি। আহত হন স্কুটার চালক ৩৪ বছরের শাহবাজ হুসেন এবং আরোহী ২৮ বছরের শানা পারভিন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসাপাতালে। পরে মৃত্যু হয় শানার। তাঁদের মাথাতেও হেলমেট ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।