চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার
৪ মে ভোটের ফল বেরোনো না পর্যন্ত সব দলের নেতৃত্ব এবং প্রার্থীরা টেনশনে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। এদের সঙ্গে চার তারিখ পর্যন্ত কার্যত বিনিদ্র রজনী কাটাতে হচ্ছে শাসক তৃণমূলের কাউন্সিলারদের। কারণ দলীয় নেতৃত্বের তরফে ভোটের আগেই তাঁদের কাছে পরিষ্কার বার্তা চলে গিয়েছে যে, 'ওয়ার্ডে জেতাও, টিকিট নাও'। অর্থাৎ, নিজের ওয়ার্ডে পর্যুদস্ত হলে আগামী পুরসভা নির্বাচনে টিকিট মিলবে না। তাই বুক ঠুকে ভালো ফলের দাবি করলেও তির তির করে আশঙ্কার চোরাস্রোত বয়ে চলেছে কোচবিহারের সব পুরসভার শাসক কাউন্সিলারদের মনে। যদিও প্রকাশ্যে বিষয়টি কেউ স্বীকার করতে চাইছেন না।
বছর ঘুরলেই রাজ্যের পুরসভা নির্বাচন। কোচবিহারে ছ'টি পুরসভা রয়েছে। কোচবিহার, দিনহাটা, মাথাভাঙা, মেখলিগঞ্জ হলদিবাড়ি এবং তুফানগঞ্জ। এই সমস্ত পুরসভা তৃণমূলের দখলে থাকলেও গত লোকসভা নির্বাচনে বেশিরভাগ ওয়ার্ডে বিজেপির কাছে পিছিয়ে ছিল তৃণমল। এবার ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার)-এর জেরে বহু নাম বাদ যাওয়ায় কম মার্জিনে জয় পরাজয় নির্ধারণ হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। শহুরে ভোট বিগত নির্বাচনগুলোতে শাসকদলের সঙ্গে না থাকায় এক্ষেত্রে চিন্তা বাড়িয়েছে কাউন্সিলারদের। শহরে ব্যবধান কমাতে তাঁদের কাছে একপ্রকার নির্দেশ ছিল, লিড নিয়ে আসতে হবে।
২০২৪-এ তৃণমূল কোচবিহার লোকসভা আসনে জিতলেও শহরের ফল খারাপ হয়। এরপরেই গোটা রাজ্যের সঙ্গে জেলার ছ'টি পুরসভারই চেয়ারম্যান বদল হয়। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার শহরের ২০টি ওয়ার্ডে ১৮ হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে ছিল শাসকদল।
দিনহাটা পুরসভা এলাকায় বিজেপির কাছে আড়াই হাজারে পিছিয়ে ছিল। মেখলিগঞ্জ পুরসভা এলাকায় ব্যবধান ছিল তিন হাজার। তাই কাউন্সিলারদের উপরে চাপ বেশি ছিল।
দলের প্রার্থীকে জেতাতে কোচবিহার থেকে তুফানগঞ্জ, মাথাভাঙা-সহ সব পুরসভার কাউন্সিলাররা তাঁর ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে আদা-জল খেয়ে ময়দানে নামেন। যদিও এ ব্যাপারে কাউন্সিলারদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোচবিহারের এক কাউন্সিলার বলেন, 'পুরসভার ভোট আর লোকসভা কিংবা বিধানসভার নির্বাচন এক নয়। তিনটি ক্ষেত্রেই ভোটে আলাদা আলাদা ইস্যু থাকে। সেখানে কাউন্সিলার ভোট হয় ছোট এলাকায়। ব্যক্তিগত পরিচিতি এখানে কাজে লাগে। তাই বিধানসভার ভোটের ফলের সঙ্গে টিকিটের বিষয়টি বিবেচ্য হওয়া উচিত নয়।' তৃণমূলের এক জেলা নেতা বলেন, 'অনেক বড় নেতাও পুরসভা নির্বাচনে তাঁদের ওয়ার্ডে হেরেছেন। তাই সে ক্ষেত্রে বিধানসভায় লিড নিয়ে টিকিটের বিষয়টি ভাবা উচিত নয়।'
এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল আহমেদ বলছেন, 'প্রত্যেক কাউন্সিলার নিজেদের মতো করে পরিশ্রম করেছেন। তাঁরা প্রার্থীদের জেতানোর জন্য খেটেছে। এটুকুই শুধু বলতে চাই।'