অর্ঘ্য বিশ্বাস, ময়নাগুড়ি
যে সারিন্দার সুরে একসময়ে মাতিয়েছেন গোটা বাংলা, যার জন্য ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মান দিয়েছে- সেই সারিন্দায় সুর তুলতে বেগ পেতে হচ্ছে প্রবীণ শিল্পী মঙ্গলাকান্ত রায়কে। চোখেমুখে বয়সের ছাপ স্পষ্ট। বার্ধক্য জানান দিচ্ছে, তিনি বড়ই ক্লান্ত। শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মমাফিক তিন কিলোমিটার হাঁটাই ছিল তাঁর দাওয়াই। বর্তমানে অসুস্থতার কারণে একেবারেই ঘরবন্দি। গত ২৩ এপ্রিল বাড়িতে বসেই ভোট দিয়েছেন মঙ্গলাকান্ত। পরিবারের সদস্যরা বার বার চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার করলেও শিল্পী নাছোড়বান্দা। ঘর থেকে নড়তেই চাইছেন না। আর এতেই চিন্তায় পড়েছে গোটা পরিবার। এ দিকে মঙ্গলাকান্তের শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আর এক পদ্মশ্রী প্রাপক, 'বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা' করিমুল হক। খুব শিগগিরিই নিজের 'বাইক অ্যাম্বুল্যান্স' নিয়ে মঙ্গলাকান্তের বাড়ি যাওয়ার কথা জানিয়েছেন করিমুল।
ময়নাগুড়ির আমগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ধওলাগুড়ি গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গলাকান্তের বয়স একশো ছুঁইছুঁই। কোনওরকম ওষুধ কিংবা চিকিৎসার প্রতি তাঁর অনীহা বরাবরের। জ্বর, সর্দি, কাশিতেও কাবু হননি তিনি। শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকত দই-চিড়ে। তবে মাস খানেক হলো প্রিয় খাবারও মুখে তুলতে পারছেন না শিল্পী। স্ত্রী চম্পা রায় বলছেন, 'যাঁর দই-চিড়ে দিয়ে দিন শুরু হতো, সেই তিনি এখন ওই খাবার মুখে তুলছেন না। ভাতও সেভাবে খাচ্ছেন না। না খেয়ে খেয়ে শরীর আরও দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। কাঠের ভাঙাচোরা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতেও বেগ পেতে হচ্ছে। এই অবস্থায় কী করব, আমরাও বুঝে উঠতে পারছি না।' মঙ্গলাকান্তের বড় ছেলে উমাকান্ত রায় বলেন, 'বাবার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। আগে প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটতেন। একমাস ধরে সেটাও বন্ধ। ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বহুবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বাবা রাজি হচ্ছেন না। স্থানীয় গ্রামীণ চিকিৎসক বাড়িতে এসে দেখে গিয়েছেন। গলায় সমস্যা রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।'
আমতা আমতা করে মঙ্গলাকান্ত বলছেন, 'বয়স বাড়ছে। তাই শরীরও আগের মতো সায় দিচ্ছে না। ওষুধপত্র ছাড়াই তো এতকাল পার করে এলাম।' তবে শরীর খারাপের থেকেও তাঁর আক্ষেপ, সারিন্দায় সুর তুলতে বেগ পাওয়া। এ দিকে করিমুল বলছেন, 'মঙ্গলাকান্ত শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, সারা দেশের গর্ব। তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজন। যত তাড়াতাড়ি হয় আমি তাঁর বাড়ি যাব। প্রশাসনের তরফেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।'