নয়া দলের নাম ঘোষণা করেই বাবাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন কবিতা
বর্তমান | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
হায়দরাবাদ: দেশ শাসনের লক্ষ্য নিয়ে নিজের দলের নাম বদলে ছিলেন কে চন্দ্রশেখর রাও। তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি (টিআরএস) হয়েছিল ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস)। তেলেঙ্গানার ভোটদাতারা এই পরিবর্তন মেনে নেয়নি। অনেকেই বলেন, এই কারণেই ২০২৩ সালে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয় কেসিআরের। রেবন্ত রেড্ডির হাত ধরে তেলেঙ্গানায় কংগ্রেস শাসন শুরু হয়। এবার নতুন দল গড়ে ‘টিআরএস’কে ফিরিয়ে আনলেন তাঁর মেয়ে কে কবিতা। শনিবার সামনে এসেছে কবিতার দলের নাম — তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সেনা (টিআরএস)।
শনিবার হায়দরাবাদে বিপুল জমায়েতের মধ্যে দলের নাম ঘোষণা করেন কবিতা। এরপরই কংগ্রেস, বিজেপি এবং বিআরএসকে তুলোধোনা করেন তিনি। তবে বাবাকে লক্ষ্য করে তাঁর বাছাবাছা বিশেষণগুলি সকলের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, চন্দ্রশেখর রাও এখন বদলে গিয়েছেন। তিনি এখন হৃদয়হীন। তাঁর কথায়, ‘কেসিআর বলেছেন তাঁকে ভোট না দিয়ে মানুষ ভুল করেছে। সন্তান যদি ভুল করে, তবে বাবা-মা কি সন্তানের থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকবে?’ রাজ্যের সমস্যাগুলি কেসিআর তুলে না ধরার জন্যই তিনি নতুন দল গড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে কবিতা জানিয়েছেন।
দু’বছর আগে তাঁর দুই তুতো
ভাই— টি হরিশ রাও এবং জে সন্তোষ কুমারের বিরুদ্ধে সেচ দুর্নীতির অভিযোগ করলে কবিতাকে বিআরএস থেকে বহিষ্কার করা হয়। অনেকেই বলছেন কবিতার দল ঘোষণায় সবচেয়ে বিপাকে পড়বে বিজেপি। কারণ, বিআরএসের শূন্য জায়গা পূরণের চেষ্টা চালাচ্ছে গেরুয়া শিবির। এই অবস্থায় কবিতাকে আক্রমণ করেছে তেলেঙ্গানা বিজেপি। দলের প্রধান মুখপাত্র এন ভি সুভাষ বলেন, ‘বিজেপির উপর কবিতার দলের কোনো প্রভাব পড়বে না। কেন মানুষ ওঁকে বিশ্বাস করবে? তেলেঙ্গানার উন্নয়নে ওঁর কি অবদান রয়েছে? তিনি মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন।’ কবিতাকে আক্রমণ করেছে বিআরএসও। দলের বিধায়ক শ্রাবণ দাসৌজ বলেন, ‘চন্দ্রশেখর রাও একজন প্রণম্য
ব্যক্তি। তেলেঙ্গানা আন্দোলনে তাঁর অবদান ইতিহাসের অংশ। কেউ তাঁকে আক্রমণ করলে রাজ্যের মানুষ তাঁকে শিক্ষা দেবে।’